বেতন পরিশোধে সরকারের ব্যাংকঋণ ঋণনির্ভরতা: রাজস্ব দুর্বলতা, ব্যাংকিং খাতের চাপ ও বেসরকারি বিনিয়োগের ঝুঁকি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন এবং আগের তিন মাসের বকেয়া পরিশোধে ব্যাংক খাত থেকে আরও ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার উদ্যোগ বাংলাদেশের সরকারি অর্থব্যবস্থার একটি মৌলিক দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বেতন পরিশোধ রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। কিন্তু নিয়মিত রাজস্ব আয় দিয়ে নিয়মিত ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব না হলে এবং সেই ঘাটতি মেটাতে সরকারকে স্বল্পমেয়াদি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হলে প্রশ্ন ওঠে—রাষ্ট্রের আয়-ব্যয়ের কাঠামো কতটা টেকসই?
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি মাসে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৫৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। প্রস্তাবিত ৫ হাজার কোটি টাকার ১৪ দিন মেয়াদি বিশেষ ট্রেজারি বিল যুক্ত হলে অক্টোবরের মোট ঋণ সংগ্রহ দাঁড়াবে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সরকারের ব্যাংকঋণের নিট পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন: নিলামের মাধ্যমে সংগৃহীত মোট অর্থ এবং সরকারের প্রকৃত নিট ঋণ এক বিষয় নয়। পুরোনো ঋণের মেয়াদপূর্তিতে পরিশোধিত অর্থ পুনরায় ঋণ নিয়ে সমন্বয় করা হলে মোট ঋণ সংগ্রহ বেশি হলেও নিট ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ তুলনামূলক কম হতে পারে।
তবু এক মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ এবং নিয়মিত বেতন পরিশোধে বিশেষ স্বল্পমেয়াদি বিল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা সরকারি নগদ ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। ১৪ দিন মেয়াদি বিল মূলত সাময়িক তারল্য ঘাটতি মোকাবিলার উপকরণ। কিন্তু সাময়িক অর্থসংকট যদি রাজস্ব আহরণে কাঠামোগত দুর্বলতা এবং নিয়মিত ব্যয়ের তুলনায় অপর্যাপ্ত আয়ের প্রতিফলন হয়, তাহলে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিয়ে তার সমাধান করা যায় না। এতে সমস্যার মূল কারণ দূর না হয়ে কেবল পরিশোধের সময় পিছিয়ে যায়।
সরকারের ঋণনির্ভরতার অন্যতম কারণ প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আয় না হওয়া। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন ধরেই নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিপুল অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি, করজালের সীমাবদ্ধতা, কর ফাঁকি, ছাড়ের জটিলতা এবং কর প্রশাসনের দুর্বলতা রাজস্ব আহরণের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করে রেখেছে। এর বিপরীতে সরকারি বেতন-ভাতা, সুদ পরিশোধ, ভর্তুকি, সামাজিক সুরক্ষা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের দায় ক্রমাগত বাড়ছে।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে যৌক্তিক হতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে বেতন সমন্বয় তাদের জীবনযাত্রা এবং কর্মপ্রেরণা রক্ষায় ভূমিকা রাখে। কিন্তু এ ধরনের স্থায়ী ব্যয় বৃদ্ধির বিপরীতে স্থায়ী রাজস্ব উৎস নিশ্চিত না করে ঋণের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হলে ভবিষ্যৎ বাজেটের ওপর চাপ বাড়বে। অর্থাৎ বেতন বৃদ্ধি নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা হলো তার অর্থায়নে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতার অনুপস্থিতি।
সার্বিক পর্যালোচনা ও বিশ্লেষনে মনে হচ্ছে ব্যাংকঋণ বেসরকারি খাতকে সংকুচিত করছে।
সরকারের ব্যাংকঋণ বৃদ্ধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রভাব হলো বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের ওপর সম্ভাব্য চাপ। অর্থনীতিতে ব্যাংকের আমানত ও ঋণযোগ্য তহবিল সীমাহীন নয়। ব্যাংক যখন সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে অর্থ বিনিয়োগ করে, তখন তার একটি অংশ তুলনামূলক নিরাপদ সরকারি সম্পদে আবদ্ধ থাকে। সরকারি ঋণের চাহিদা বাড়লে ব্যাংকগুলো বেসরকারি ব্যবসা, শিল্প ও উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে পারে।
সরকারি ঋণ ও বেসরকারি বিনিয়োগ-এতে ক্রাউডিং আউটের ঝুঁকি কতটা,এটাও জানা জরুরী।সরকারের ব্যাংকঋণ বৃদ্ধি বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ও বিনিয়োগের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা মূল্যায়নে ‘ক্রাউডিং আউট’ বা বেসরকারি বিনিয়োগ সংকুচিত হওয়ার তত্ত্বটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সরকার যখন ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বেশি ঋণ নেয়, তখন ঋণযোগ্য তহবিলের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। এর ফলে ঋণের সুদহার বৃদ্ধি পেলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মূলধন সংগ্রহের ব্যয় বাড়ে এবং নতুন বিনিয়োগের কিছু পরিকল্পনা স্থগিত বা বাতিল হতে পারে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঝুঁকি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে সরকারি ঋণ বাড়লেই বেসরকারি বিনিয়োগ একই অনুপাতে কমবে—এমন সিদ্ধান্তও অর্থনৈতিকভাবে যথার্থ নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করে যে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য তারল্য ছিল। ফলে সরকারের ঋণ বৃদ্ধিকে সরাসরি বেসরকারি খাতের জন্য অর্থসংকটের সমার্থক হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। উদ্বৃত্ত তারল্যের একটি অংশ ব্যাংকের ন্যূনতম তারল্য সংরক্ষণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক ও পরিচালনাগত প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতে পারে। আবার সব ব্যাংকের হাতে সমানভাবে ঋণযোগ্য অর্থ থাকে না। খেলাপি ঋণ, মূলধনসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা, ঋণগ্রহীতার ঝুঁকি এবং দুর্বল বিনিয়োগ চাহিদাও বেসরকারি ঋণপ্রবাহকে প্রভাবিত করে।
অন্যদিকে, সরকারের ঋণের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে ট্রেজারি বিলের ইল্ড বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষণীয়। ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ড ৫ অক্টোবরের ৮.১৩ শতাংশ থেকে ২৬ অক্টোবর ৮.৫৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। এই পরিবর্তন সরকারি স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিলেও এর পুরোটা সরকারি ঋণের চাহিদার কারণে হয়েছে, এমন দাবি করার জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন। মুদ্রানীতির অবস্থান, বাজারের তারল্য বণ্টন, নিলামে অংশগ্রহণকারীদের চাহিদা এবং অন্যান্য বাজার পরিস্থিতিও ইল্ড নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
এখানে সরকারি ঋণের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। ঋণ নিয়ে যদি সরকার উৎপাদনশীল অবকাঠামো, পরিবহন, জ্বালানি সরবরাহ, শিক্ষা বা এমন খাতে বিনিয়োগ করে, যা বেসরকারি উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সেই ব্যয় বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে পারে। অর্থাৎ সরকারি ঋণ সব সময় বেসরকারি বিনিয়োগের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; কিছু ক্ষেত্রে এটি বেসরকারি বিনিয়োগের পরিপূরকও হতে পারে। বিপরীতে, রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে ধারাবাহিকভাবে ঋণ নিয়ে নিয়মিত পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করতে হলে ভবিষ্যতে সুদ পরিশোধের দায় বাড়বে, অথচ অর্থনীতির উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর মতো সম্পদ সৃষ্টি নাও হতে পারে। এ ধরনের ঋণনির্ভরতা তুলনামূলক বেশি উদ্বেগজনক।
সুতরাং বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ক্রাউডিং আউটের ঝুঁকি নির্ধারণে শুধু সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ নয়, বরং নিট ঋণ বৃদ্ধি, ট্রেজারি বিলের ইল্ড, বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের প্রবৃদ্ধি, ঋণের প্রকৃত ব্যয় এবং বিনিয়োগের প্রবণতা একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিলে বেসরকারি খাতের অর্থায়ন কতটা প্রভাবিত হচ্ছে, তা বোঝার জন্য এসব সূচকের ধারাবাহিক তথ্য জরুরি।
মূল নীতিগত প্রশ্ন তাই সরকারি ঋণ নেওয়া উচিত কি না, শুধু তা নয়; বরং ঋণের প্রয়োজন কেন বাড়ছে, অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং তার বিপরীতে কতটা অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি হচ্ছে। রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অক্ষুণ্ণ রাখাই হবে ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মূল শর্ত।
এখানে ‘ক্রাউডিং আউট’ বা বেসরকারি বিনিয়োগ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সরকারি ঋণের চাহিদা সুদের হার বাড়ালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মূলধন সংগ্রহ ব্যয়বহুল হয়। ফলে নতুন কারখানা স্থাপন, যন্ত্রপাতি আমদানি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যেতে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আহরণ—উভয় ক্ষেত্রেই পড়ে।
তবে এই সম্পর্ক স্বয়ংক্রিয় নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ব্যাংক খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তারল্য ছিল; কিন্তু উদ্বৃত্ত তারল্য মানেই সমপরিমাণ অর্থ সহজে বেসরকারি খাতে ঋণ হিসেবে বিতরণযোগ্য—এমন নয়। ব্যাংকের মূলধন পর্যাপ্ততা, খেলাপি ঋণের ঝুঁকি, আমানতের স্থিতিশীলতা, তারল্যের বণ্টন এবং ঋণগ্রহীতার ঋণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং সরকারি ঋণ বাড়লেই বেসরকারি ঋণ সমপরিমাণ কমবে, এমন সিদ্ধান্তও যথার্থ নয়। বরং দেখতে হবে, সরকারি ঋণের কারণে ঋণের সুদ, বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ এবং নতুন বিনিয়োগের গতিতে কী পরিবর্তন ঘটছে।
৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ইল্ড ৫ অক্টোবরের ৮.১৩ শতাংশ থেকে ২৬ অক্টোবর বেড়ে ৮.৫৫ শতাংশ হয়েছে। ব্যবধান ০.৪২ শতাংশ পয়েন্ট বা ৪২ বেসিস পয়েন্ট। এই বৃদ্ধি সরকারি স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের ব্যয় বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে সুদের হার বৃদ্ধির পেছনে সরকারি ঋণের চাহিদা ছাড়াও বাজারের তারল্য বণ্টন, নিলামের প্রতিযোগিতা এবং মুদ্রানীতির অবস্থান ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারের ঋণ ব্যয়বহুল হলে ভবিষ্যৎ বাজেটে সুদ পরিশোধের বরাদ্দও বাড়ে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও উৎপাদনশীল খাতে ব্যয়ের জন্য রাজস্বের অবশিষ্ট অংশ সংকুচিত হতে পারে। অর্থাৎ আজকের ঋণ কেবল আজকের নগদ ঘাটতি পূরণ করে না; এটি আগামী দিনের বাজেটের ওপরও দায় সৃষ্টি করে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের ঋণ ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা। এই প্রেক্ষাপটে ঋণকে কেবল অর্থসংস্থানের পরিমাণ দিয়ে বিচার না করে তার ব্যবহার, মেয়াদ, সুদব্যয় এবং অর্থনীতিতে প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
প্রথমত, করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি প্রতিরোধ, ডিজিটাল কর প্রশাসন এবং কর অব্যাহতির যৌক্তিক পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, সরকারি ব্যয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে; তবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগে নির্বিচার কাটছাঁট করা যাবে না। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত অর্থায়নের জন্য সুকুকসহ উপযুক্ত সরকারি সিকিউরিটিজের ব্যবহার বাড়ানো যেতে পারে। চলতি অর্থবছরে ৩২ হাজার কোটি টাকার সুকুক ছাড়ার লক্ষ্য এই বহুমুখীকরণের একটি সম্ভাব্য পথ। তবে সুকুকও ঋণ বা দায় সৃষ্টি করতে পারে; তাই এটি রাজস্ব ঘাটতির স্থায়ী সমাধান নয়।
চতুর্থত, সরকারি ঋণের নিলাম, মেয়াদপূর্তির দায়, নিট ঋণ এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের তথ্য নিয়মিত ও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন। এতে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, ব্যাংক এবং বিনিয়োগকারীরা প্রকৃত আর্থিক চাপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন।
পরিশেষে, সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা—দুটিই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু নিয়মিত বেতন পরিশোধের জন্য বারবার স্বল্পমেয়াদি ঋণের ওপর নির্ভরতা কোনো টেকসই অর্থনৈতিক মডেল হতে পারে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নির্ধারিত হয় কেবল কত টাকা ঋণ নেওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে নয়; বরং কতটা স্থিতিশীলভাবে রাজস্ব আয় করা যাচ্ছে এবং সেই অর্থ কতটা উৎপাদনশীল ও কার্যকরভাবে ব্যয় করা হচ্ছে, তার মাধ্যমে।
বাংলাদেশের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ ঋণ নেওয়া বন্ধ করা নয়, বরং ঋণের প্রয়োজন কেন বাড়ছে, তা দূর করা। রাজস্ব সংস্কার, ব্যয়ের দক্ষতা এবং বেসরকারি বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে আজকের বেতন পরিশোধের ঋণ আগামী দিনের সুদব্যয়, বিনিয়োগ সংকোচন এবং প্রবৃদ্ধির সীমাবদ্ধতায় রূপ নিতে পারে। রাষ্ট্রের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য এই সতর্কসংকেতকে সাময়িক নগদ সংকট হিসেবে উপেক্ষা না করে কাঠামোগত সংস্কারের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা জরুরি।
লেখক: ব্যাংকার ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অ্যানালিস্ট
(ঢাকাটাইমস/২৮ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













