ভেদরগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে নেই এসিল্যান্ড, দুর্ভোগে সেবা প্রত্যাশীরা

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শূন্য রয়েছে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় ভূমি সংক্রান্ত কাজ যেমন- নামজারি, খাজনা আদায়, জমির পরিমাণ নির্ধারণ এবং খতিয়ান সংশোধন, জমি কেনা-বেচা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। ভূমি অফিসের কর্মীরা যেমন কাজের চাপের মধ্যে পড়েছেন, তেমনি সাধারণ মানুষও সঠিক সময়ে তাদের ভূমি সংক্রান্ত কাজ শেষ করতে পারছেন না।
ভুক্তভোগী প্রবাসী খলিল মিয়া বলেন, আমি নামজারির জন্য আবেদন করেছিলাম একমাস আগে। কিন্তু কাজের ধীরগতির কারণে তা পেতে অনেক বেগ পোহাতে হচ্ছে। আমাদের অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ রেখে একাধিকবার ভূমি অফিসে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। তবে অনলাইন সিস্টেমে নামজারি ২৮ দিনে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা থাকলেও এসিল্যান্ড না থাকায় দীর্ঘ সময় লাগছে। আমি প্রবাসী মানুষ,এদিকে ছুটির মেয়াদ শেষ। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না। কবে এসিল্যান্ড আসবে এটা কেউ বলতেও পারছে না।
মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত জসিম খালাসির মা সুফিয়া খাতুন। এই রোগের চিকিৎসা করাতে বিপুল পরিমাণ টাকার প্রয়োজন। এমন অবস্থায় তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জমি বিক্রি করে মায়ের চিকিৎসা করাবেন। বাড়ির পাশে এক প্রতিবেশীর কাছে জমি বিক্রি করেছেন। কিন্তু জমি গ্রহীতাকে দলিল করে দিতে না পারায় গ্রহীতা টাকা বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এদিকে নামজারি না হওয়ায় জমি দখল করাও যাচ্ছে না। সবমিলিয়ে এখন তার মায়ের চিকিৎসা প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, দুই মাস আগে নামজারির জন্য আবেদন করেছিলাম, এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। অফিসের কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কবে নাগাদ নামজারি সম্পন্ন হবে। একটি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে এসিল্যান্ড নেই এটা হতে পারে? এভাবে আর কতোদিন অপেক্ষায় থাকতে হবে আল্লাহ ভালো জানে।
দলিল লেখক আমজাদ হোসেন বলেন, প্রতিদিন ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রচুর জমি বেচাকেনা হয়। কিন্তু নামজারি, বাটোয়ারা এবং খাজনা পরিশোধ ছাড়া জমি হস্তান্তর করা যায় না। এসিল্যান্ড না থাকায় এসব কাজ আটকে আছে। আমরা তেমন কোনো কাজ করতে পারছি না। জনগণের পাশাপাশি আমরাও আর্থিক সংকটে ভুগছিল।
উপজেলা ভূমি অফিসের একজন কর্মকর্তা জানান, উপজেলার অধীনে সহকারী ভূমি অফিস রয়েছে, যা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বারা পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এসিল্যান্ড না থাকায় এসব অফিসেও ভূমি সংক্রান্ত সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এসিল্যান্ড স্যার না থাকায় নামজারি ও জমাখারিজের কাজ ধীরগতিতে চলছে। এতে সেবাগ্রহীতারা ঠিকমতো সেবা পাচ্ছেন না। এই বিষয়টিও তাদের বোঝানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদে অফিসার পদায়ন করতে জেলা প্রশাসককে অফিসিয়ালি জানানো হয়েছে। বর্তমানে ভূমি অফিসের সেবা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। আসা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে এসিল্যান্ড পাবো।
(ঢাকা টাইমস/২৮অক্টোবর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










