সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩৩
অ- অ+

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) পিএলসির চট্টগ্রাম পোর্ট শাখা থেকে জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ২৫ কোটি টাকা ঋণ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন রোববার (৪ জানুয়ারি) এ তথ্য জানান। ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই দুদকের চট্টগ্রাম-১ জেলা কার্যালয়ে দায়েরকৃত মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়কালে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির পোর্ট শাখা, চট্টগ্রাম ও প্রধান কার্যালয়, ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধ সংঘটিত হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট লিমিটেডের প্রোটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামীয় একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী দেখানো হয়। মিথ্যা তথ্য ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ১৩ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে ইউসিবি পোর্ট শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়, যার নম্বর ০৪৯২১০১০০০০০৬৮১৫।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, শাখার সিনিয়র অফিসার মো. আকরামউল্লাহ এবং তৎকালীন শাখা প্রধান ও ডেপুটি প্রিন্সিপাল অফিসার আবদুল হামিদ চৌধুরী কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে হিসাবটি অনুমোদন দেন।

পরবর্তীতে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে ভিশন ট্রেডিংয়ের নামে গম, মসুর, ছোলা ও হলুদ মটর ক্রয়ের কথা উল্লেখ করে ১৮০ দিনের জন্য ২৫ কোটি টাকার টাইম লোনের আবেদন করা হয়। মিথ্যা স্টক, অভিজ্ঞতা ও গুদাম সংক্রান্ত তথ্য দেখিয়ে কোনো জামানত ছাড়াই ঋণ প্রদানের সুপারিশ করা হয়।

ইউসিবির কর্পোরেট ব্যাংকিং ও ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের যৌথ কমিটি ১৭টি নেতিবাচক পর্যবেক্ষণসহ ঋণ প্রস্তাবটি পরিচালনা পর্ষদের কাছে উপস্থাপন করে। এসব নেতিবাচক দিক উপেক্ষা করেই ১২ মার্চ ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৪৪৮তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় ঋণটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

ঋণ বিতরণের পর অর্থের গতিপথ আড়াল করতে ২০২০ সালের ২৩ ও ২৪ মার্চ যথাক্রমে ১০ কোটি ও ১৫ কোটি টাকা প্রথমে ব্যাংকের জেনারেল লেজার হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরে পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ চারটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান -আলফা ট্রেডার্স, ক্ল্যাসিক ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের হিসাবে পাঠানো হয়।

দুদক জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীরা মূলত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও সহযোগী। পরবর্তীতে এই অর্থ আরামিট সিমেন্ট পিএলসি ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে স্থানান্তর করে প্রায় ১৪ কোটি ১১ লাখ টাকা পূর্ব দায় সমন্বয়ে ব্যবহার করা হয়।

এছাড়া আরামিট গ্রুপের কয়েকজন কর্মচারী ৯ কোটি ৪১ লাখ ৭ হাজার ২০০ টাকা নগদ উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, এ ঘটনায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্ত্রী ও ইউসিবি পিএলসি’র সাবেক চেয়ারম্যান রূকমিলা জামানসহ মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। সূত্র: বাসস। (ঢাকাটাইমস/৪জানুয়ারি/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মিরপুর বিভাগে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেপ্তার ১১৯
কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর
৮০ বছরে ভারত: দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতি ও বাংলাদেশের প্রত্যাশা
রবিবার কিশোরগঞ্জ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা