হরমুজ প্রণালীতে মাইন পুঁতছে ইরান, খবরে তেল ও গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালীতে ইরান মাইন স্থাপন শুরু করেছে এমন খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।
বুধবার সকালের লেনদেনে ইউরোপীয় গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে যায়। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের পাইকারি গ্যাসের প্রধান চুক্তির মূল্যও প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই বাজারে এ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
এর আগে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সঙ্গে পরিচিত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরান প্রণালীটিতে মাইন স্থাপন শুরু করেছে। যদিও সূত্রগুলো বলছে, এখনো বড় পরিসরে এ কাজ শুরু হয়নি; গত কয়েক দিনে মাত্র কয়েক ডজন মাইন স্থাপন করা হয়েছে।
তবে একটি সূত্রের দাবি, ইরানের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ছোট নৌকা ও মাইন স্থাপনকারী যান এখনো অক্ষত রয়েছে। ফলে চাইলে দেশটি এই জলপথে কয়েক’শ মাইন স্থাপন করতে পারে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস বর্তমানে দেশটির নৌবাহিনীর পাশাপাশি কার্যত এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কাছে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরকবোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাসহ শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে, তবে সেগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া উচিত।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা এমন ১৬টি ইরানি নৌযান ধ্বংস করেছে, যেগুলো জলপথের কাছে মাইন স্থাপন করছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এতে করে অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ইউরোপ ও এশিয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা ও সিএনএন
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













