হুতিদের দমাতে সৌদিতে শতাধিক সামরিক উপদেষ্টা পাঠাল আমেরিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৪
অ- অ+

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের মিত্র হুতি বিদ্রোহীদের দমনে সৌদি আরবকে আরও জোরালো গোয়েন্দা ও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেন উপকূলে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় এবং কৌশলগত নৌপথগুলো হুমকির মুখে পড়ায় ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে এই সামরিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য এবং লক্ষ্য নির্ধারণে সহায়তা করতে দেশটিতে একশরও বেশি মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা অবস্থান করছেন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গঠিত একটি যৌথ বাহিনী কমান্ডের আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা মূলত সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলায় ইরানের ক্রমবর্ধমান সহায়তার জবাব হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে বর্তমানে মোতায়েন করা মার্কিন সেনার মোট সংখ্যা প্রায় দুই শ জনে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র রিয়াদকে এমন একটি উন্নত লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থা ব্যবহারে সহায়তা করছে, যার মাধ্যমে সৌদি সামরিক কর্মকর্তারা যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।

এটিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরে ব্যবহৃত ব্যবস্থার সমতুল্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে হুথিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে সৌদি আরব আরও নিখুঁতভাবে ভৌগোলিক অবস্থানভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে সক্ষম হচ্ছে। তবে এই সহায়তার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন কিছু কঠোর সীমাবদ্ধতাও বজায় রেখেছে। অতীতে ইয়েমেনে হুতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সরাসরি বিমান হামলা পরিচালনা বা যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহ করেছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেমন কোনো প্রত্যক্ষ সামরিক অপারেশনাল সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না। মার্কিন বাহিনীর মূল লক্ষ্য হলো সৌদি সামরিক অভিযান যেন আরও সুশৃঙ্খল ও পেশাদার উপায়ে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করা এবং এটিকে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতারই একটি সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে সাম্প্রতিক সময়ে হুথিদের অগ্রাভিযান এবং সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলা বেড়ে যাওয়ায় এই যৌথ পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনে এই সংঘাত ২০২২ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছেছে। এর মধ্যেই হুথি যোদ্ধারা লোহিত সাগরের একটি অত্যন্ত কৌশলগত বন্দর দখল করে নিয়েছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালিকে সরাসরি হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এছাড়া চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন ড্রোন হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা, ইয়েমেনে বর্তমানে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর শত শত কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে হুথিদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন এবং তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বাব আল-মান্দাব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া।

তবে মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপে অতীত অভিজ্ঞতার এক ধরনের ছায়া রয়েছে। বারাক ওবামা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে রিয়াদকে মার্কিন বাহিনীর দেওয়া লক্ষ্য নির্ধারণ সংক্রান্ত সহায়তা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল, কারণ সেসব অভিযানে সাধারণ মানুষের বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরে সৌদি অভিযানের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়া নিয়ে এক ধরনের সতর্কতা ও উদ্বেগ কাজ করছে। বিশেষ করে কোনো ভুল বা ত্রুটিপূর্ণ হামলার কারণে যদি আবারও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে, তবে তা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাতে মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। হরমুজ প্রণালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন সেনারা নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন ও যুদ্ধাস্ত্রের মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। এমন একটি জটিল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব উভয় দেশই হুথিদের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন রুখতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য রুটগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই নতুন সামরিক সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: সিএনএন

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ২০৫ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার: চিফ হুইপ
ডেমোক্র্যাটদের ‘ঘৃণার দল’ বলে আখ্যা দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স
চট্টগ্রামে চীন ও পাকিস্তানিসহ ৬২ বিদেশি নাগরিক আটক
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিশেষ বার্তা শান্ত-তাসকিন-মিরাজের