নিহতের বিরুদ্ধে আছে ৮ মামলা

খিলগাঁওয়ের খালে ভাসছিল অজ্ঞাত লাশ, ৩৬ ঘণ্টায় বের হলো হত্যার রহস্য; গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০১| আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৯
অ- অ+

রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনী ব্রিজের নিচে জিরানি খালে ভাসছিল এক ব্যক্তির লাশ। অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশটি উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্তে শুরু হয় পুলিশের তদন্ত। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই বেরিয়ে আসে নিহত ব্যক্তির পরিচয় এবং এ ঘটনার প্রাথমিক রহস্য।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি মো. জজ মিয়া (৪৪)। তিনি নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মসুরাকান্দা এলাকার বাসিন্দা। ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় ভাড়া থাকতেন তিনি।

দ্রুত সময়ের মধ্যে লাশের পরিচয় শনাক্ত ও রহস্য উদঘাটনের পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে খিলগাঁও থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামির মো. আব্দুল্লাহ (৩৩)।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ঢাকা টাইমসকে এসব তথ্য জানান ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

তিনি জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে ত্রিমোহনী ব্রিজের নিচে জিরানি খালের পানিতে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যার কারণ ও ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তদন্তে নিহত ব্যক্তির মুঠোফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড, বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষীদের দেওয়া তথ্য সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে জজ মিয়ার গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর জজ মিয়া খিলগাঁওয়ের বাসা থেকে বের হন। পরদিন রাত ১২টা ২৮ মিনিটে তিনি বাড্ডার মেরুল বাড্ডা এলাকার একটি গ্যারেজে যান। সেখানে আগে থেকেই আব্দুল্লাহসহ আরও কয়েকজন ছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, সেখানে আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন মিলে জজ মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয়। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে লাশটি খিলগাঁওয়ের ত্রিমোহনী ব্রিজের নিচে জিরানি খালে ফেলে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে বাড্ডার মেরুল বাড্ডার আনন্দনগর এলাকা থেকে আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যার কারণ কী?

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, এক সহযোগীর স্ত্রীর সঙ্গে জজ মিয়ার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরকীয়ার সম্পর্কের কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা যাচাই করা হচ্ছে।

খিলগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না।

এ ঘটনায় নিহত জজ মিয়ার স্ত্রী রোজিনা বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিহত জজ মিয়ার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মিরপুরে আবাসিক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ, ৩৫ নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার
ডিজিএফআইয়ের ‘পিএস’ পরিচয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রতারণার চেষ্টা, আনসারের তৎপরতায় আটক
বাফুফের হেড অব রেফারিজের পদত্যাগ
যাত্রাবাড়ীতে ৩৩ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার