বাজার মাতাতে নতুন ক্যামেরা-চিপ-এআই নিয়ে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স আনল অ্যাপল

নতুন আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স উন্মোচন করেছে অ্যাপল। নতুন মডেল দুটিতে পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার ক্যামেরা, শক্তিশালী এ২০ প্রো চিপ, উন্নত ব্যাটারি সুবিধা এবং আইওএস ২৭-এর সঙ্গে নতুন সিরি এআই যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন আইফোনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ক্যামেরায়। ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন মেইন ক্যামেরায় প্রথমবারের মতো পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার যুক্ত করেছে অ্যাপল।
এর ফলে আলো ও দৃশ্যের গভীরতা অনুযায়ী অ্যাপারচার স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন করা যাবে। পাশাপাশি ক্যামেরা অ্যাপ থেকেই চারটি অ্যাপারচার সেটিংয়ের যেকোনোটি ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।
ছবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এসেছে ‘অ্যাপল রেফারেন্স ইমেজ’ নামে নতুন সুবিধা। রেফারেন্স মোডে ছবি তুললে ক্যামেরার সেন্সর থেকে সংগৃহীত স্বাক্ষরযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে একটি অপরিবর্তনযোগ্য রেফারেন্স ছবি তৈরি হবে। পরে মূল ছবির সঙ্গে সেটি তুলনা করে ছবিতে কোনো সম্পাদনা করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা যাবে।
আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স—দুটি মডেলেই রয়েছে নতুন এ২০ প্রো চিপ। ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি এই চিপে আগের এ১৯ প্রোর তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি মেমোরি ব্যান্ডউইথ রয়েছে।
চিপটির সাত-কোর জিপিইউ গ্রাফিকসের কর্মক্ষমতা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সক্ষম। এ ছাড়া এতে ডুয়াল ১৬-কোর নিউরাল ইঞ্জিন রয়েছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিভিন্ন কাজের সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
ব্যাটারি পারফরম্যান্সেও বড় উন্নতির দাবি করেছে অ্যাপল। ই-সিমনির্ভর মডেলে আইফোন ১৮ প্রোতে সর্বোচ্চ ৩৬ ঘণ্টা এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৪৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাক পাওয়া যাবে।
আইফোন ১৮ প্রো প্রায় ১৫ মিনিটে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যাবে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইওএস ২৭-এর সঙ্গে আসছে নতুন সিরি এআই। অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সিরি মেসেজ, ই-মেইল, ছবি ও অন্যান্য তথ্য থেকে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট বুঝতে পারবে। এমনকি ফোনের পর্দায় থাকা বিষয়বস্তু বুঝে বিভিন্ন কাজেও সহায়তা করতে পারবে।
সিরি এআই আইওএস ২৭-এর সঙ্গে বিটা সংস্করণে চালু হবে।
নতুন মডেল দুটিতে ছোট আকারের নতুন ডিজাইনের ডায়নামিক আইল্যান্ড দেওয়া হয়েছে। এটি একই সময়ে সর্বোচ্চ তিনটি লাইভ অ্যাক্টিভিটি দেখাতে পারবে।
এ ছাড়া অ্যাপলের নিজস্ব এন১ চিপের মাধ্যমে ওয়াই-ফাই ৭, ব্লুটুথ ৬ ও থ্রেড সুবিধা রয়েছে। নতুন সি২ মডেমও যুক্ত করা হয়েছে।
আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স পাওয়া যাবে কালো, সিলভার, গ্লেসিয়ার ও বারগান্ডি—এই চার রঙে। স্টোরেজ অপশন থাকছে ২৫৬ জিবি, ৫১২ জিবি, ১ টেরাবাইট ও ২ টেরাবাইট।
যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ১৮ প্রোর দাম শুরু হচ্ছে ১ হাজার ১৯৯ ডলার থেকে। আর আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম শুরু ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে।
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ৬৫টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে প্রি-অর্ডার শুরু হবে। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এসব বাজারে বিক্রি শুরু হবে।
তবে অ্যাপলের প্রথম দফার বাজারের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ফলে বাংলাদেশে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের আনুষ্ঠানিক দাম এবং বিক্রি শুরুর তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
(ঢাকাটাইমস/১০ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন







