মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম হত্যা, মূল পরিকল্পনাকারী তাসলিমা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২০ মে ২০২৬, ১৪:৫১
অ- অ+

রাজধানীর মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়া (৩৮) হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান পলাতক আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের মুগদা থানা পুলিশ এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একটি চৌকস দল যৌথ অভিযান চালিয়ে বুধবার সকালে নরসিংদীর শিবপুর থানার জয়ানগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি সেখানে তার বোন শিল্পী আক্তারের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন।

বুধবার দুপুরে ঢাকা টাইমসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন মোকাররম মিয়া। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় না গিয়ে পূর্বের পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরে সরাসরি মুগদার মান্ডা ১ম গলির আব্দুল করিম রোডের ২১৮ নম্বর বাসায় যান। ওই বাসাটি ছিল তার প্রেমিকা তাসলিমা ওরফে হাসনার বড় বোন হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসা।

এরপর গত ১৭ মে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ খবর পেয়ে মুগদা থানা পুলিশ মান্ডা ১ম গলির ২৬০/১ নম্বর ভবনের নিচে আবর্জনার স্তূপ থেকে সাতটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মাথা ও বাম হাতবিহীন খণ্ডিত, অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহায়তায় মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় র‍্যাব গত ১৮ মে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হেলেনা বেগম (৪০) ও তার মেয়ে হালিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে। পরে হেলেনা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিকনগর বালুর মাঠ এলাকা থেকে মোকাররমের বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মোকাররমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তাসলিমার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সম্পর্কের সূত্রে বিভিন্ন সময়ে মোকাররমের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নেন তাসলিমা। গত ১৪ মে ওই টাকা ফেরত চান মোকাররম এবং তাসলিমাকে তার স্বামী সুমনকে ছেড়ে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। এতে তাসলিমা রাজি না হলে দুজনের মধ্যে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাসলিমা পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মোকাররমকে খাওয়ান। তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে তাসলিমা, তার বোন হেলেনা ও ভাগ্নি হালিমা মিলে ধারালো বটি ও হাতুড়ি দিয়ে মাথা, ঘাড় ও গলায় আঘাত করে তাকে হত্যা করেন।

হত্যাকাণ্ড গোপন করতে তারা মরদেহ বাথরুমে নিয়ে ধারালো চাকু দিয়ে মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে। পরে খণ্ডিত অংশগুলো কালো পলিথিনে মুড়িয়ে মানিকনগর বালুর মাঠ ও মান্ডার একটি ভবনের নিচের ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর প্রধান আসামি তাসলিমা মোকাররমের লাগেজ ও তার চার বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিসি হারুন অর রশিদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃত তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি এ হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২০ মে/এলএম)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
১০ বছর লোকসানে পাঁচতারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ঋণের দায় নিচ্ছে সরকার
কানাডায় অভিবাসন অভিযানে ৮ মাসে ৩৪০ বাংলাদেশি বহিষ্কার
আজকের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দিলে মিলবে ৫ শতাংশ করছাড়
শাহজালালে কাস্টমসের অভিযানে ১৬ লাখ টাকার ৮১.৫০ লিটার বিদেশি মদ আটক