আসন্ন বাজেটে তামাকপণ্যে কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২১ মে ২০২৬, ১৬:১৯| আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ১৬:৩৩
অ- অ+

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সকল তামাকপণ্যের উপর মূল্য বৃদ্ধি ও সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র (ডর্প) আয়োজিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমানে দেশে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও অতি উচ্চ—এই চার স্তরের সিগারেট বাজারজাত করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ সিগারেটই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের, যা তুলনামূলকভাবে সস্তা হওয়ায় তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ সহজেই তামাক ব্যবহারে আসক্ত হয়ে পড়ছে।

প্রবন্ধে আরও উল্লেখ করা হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে আগামী বাজেটে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম ১৫০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম ২০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া সব স্তরে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবি জানানো হয়।

আলোচনায় বলা হয়, এই কর ও মূল্য প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা গেলে ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার তরুণের অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ। তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের পাশাপাশি তামাকপণ্যে কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম ২৭ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও একই সময়ে বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে মাত্র ৬ থেকে ১৫ শতাংশ। ফলে মানুষের খাদ্য ব্যয় বাড়লেও সিগারেট তুলনামূলকভাবে আরও সস্তা ও সহজলভ্য হয়ে উঠছে।

ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি ভোক্তা তৈরির উদ্দেশ্যে তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করে থাকে। তিনি তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি ও কার্যকর করারোপের বিষয়টি সংসদে উত্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুলতানা জেসমিন জুঁই এমপি বলেন, তামাকের ক্ষতি শুধু ব্যবহারকারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব নারী, শিশু ও পুরো পরিবারের ওপর পড়ে। তিনি জানান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি এবং দেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে অকালমৃত্যুর শিকার হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, কার্যকর তামাক করনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একই সঙ্গে ধূমপান কমানো এবং রাজস্ব বৃদ্ধি সম্ভব।

ফিলিপাইনের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, দেশটিতে ‘সিন ট্যাক্স’ সংস্কারের মাধ্যমে ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে সিগারেট বিক্রি ২৮ দশমিক ১ শতাংশ কমে যায় এবং রাজস্ব তিন গুণের বেশি বৃদ্ধি পায়।

সভায় এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এমপি বলেন, বিদ্যমান তামাক কর কাঠামোর কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা সম্ভাব্য রাজস্ব হারাচ্ছে। তিনি বলেন, এই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সস্তা সিগারেট সহজলভ্য হওয়ায় দেশের তরুণ সমাজ ক্রমেই তামাকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি। কার্যকর তামাক করনীতি শুধু রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয় নয়, বরং তরুণদের তামাকাসক্তি থেকে সুরক্ষারও একটি কার্যকর উপায়।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ডর্প-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এএইচএম নোমান। সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন এবং সঞ্চালনা করেন উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তামাকবিরোধী যুব প্রতিনিধি নাইমা আহমেদ, ইমরান হাসানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
রকেট প্রযুক্তিতে এবার আকাশে উড়বে গাড়ি, রোডস্টার নিয়ে ইলন মাস্কের টেসলার নতুন চমক
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প
পূবাইলে স্ত্রী হত্যা মামলার আসামি ১মাস পর কুষ্টিয়া থেকে গ্রেপ্তার
বাউল সম্রাট লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস আজ