দক্ষিণখানে চিকিৎসক খুন: জুতার ছাপ মেলায় স্বামী গ্রেপ্তার

রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় দন্তচিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনু হত্যাকাণ্ডে তার স্বামী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানালার ভেতরের অংশে পাওয়া জুতার ছাপের সঙ্গে বাসায় পাওয়া জুতার মিল পাওয়ার পর সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ জানায়, দুই দিন আগে ফায়দাবাদ এলাকার নিজ বাসা থেকে সারাহ রোকসানা পিনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, দুর্বৃত্তরা বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তাকে হত্যা করে এবং ঘরের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
তবে তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসে। সিআইডির সদস্যরা জানালার যে অংশের গ্রিল কাটা হয়েছিল, সেই জানালার ভেতরের অংশের বারান্দায় একটি জুতার ছাপ পান। পরে বাসায় পাওয়া একজোড়া জুতার সঙ্গে ওই ছাপের মিল পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, ওই জুতা নিহতের স্বামী সোহেল রানার বলে শনাক্ত হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বোন সারাহ সুলতানা পলি শুক্রবার দক্ষিণখান থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
শনিবার (২ আগস্ট) সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার এসআই হাবিবুর রহমান। তবে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাৎ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং রিমান্ড শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান বলেন, “ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে নিহত নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত জানা যাবে।”
নিহত পিনুর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী সোহেল রানার সঙ্গে তার দাম্পত্য কলহ চলছিল।
পিনুর বড় বোন পান্না অভিযোগ করেন, তার বোন আগে থেকেই স্বামীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতেন। তিনি বলেন, পিনু একাধিকবার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তাকে হত্যা করা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “দুই সন্তানের কথা চিন্তা করে পিনু সংসার টিকিয়ে রেখেছিল। সে আমাদের বলত, যদি আমি খুন হই, তাহলে সোহেলকে ছাড়বে না।”
মামলার বাদী সারাহ সুলতানা পলিও অভিযোগ করেন, পিনু তাকে ফোন করে স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন। এর আগে তাকে মারধর করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
সোহেল রানাকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনে পুলিশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- ঘটনার সময় নিয়ে অসংগতির বিষয়।
- যে জানালার গ্রিল কাটা হয়েছিল, সেটি একটি খোলা ও প্রশস্ত ছাদের পাশে। দিনের বেলায় ওই স্থানে কেউ গ্রিল কাটতে দেখেনি বা কোনো শব্দ শুনেছে বলে জানায়নি।
- জানালার ভেতরের বারান্দায় পাওয়া জুতার ছাপের সঙ্গে সোহেল রানার জুতার মিল পাওয়া গেছে।
- জানালার বাইরের অংশে কোনো জুতা বা পায়ের ছাপ পাওয়া যায়নি।
নিহতের মেয়ে হাসিন ওয়ামীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন তার মায়ের কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যায়নি।
মেয়ে স্কুল থেকে ফিরে বিষয়টি জানালেও সোহেল রানা দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী সম্পর্কে তার অসন্তোষের বিষয়টি উঠে এসেছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে সোহেল রানা মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে অফিসে যান। বিকেলে মেয়ে হাসিন ওয়ামী বাসায় ফিরে দেখে দরজা চাপানো অবস্থায় খোলা।
ঘরে ঢুকে সে দেখতে পায়, তার মা বিছানায় চিৎ হয়ে পড়ে আছেন এবং মুখের ওপর একটি বালিশ রাখা। ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বালিশ সরিয়ে সে বুঝতে পারে, তার মায়ের শরীর ঠান্ডা এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নেই।
পরে সে স্কুলে ফিরে গিয়ে প্রিন্সিপালের মোবাইল ফোন থেকে বাবাকে বিষয়টি জানায়।
নিহত সারাহ রোকসানা পিনু একজন দন্তচিকিৎসক ছিলেন। তার দুই সন্তান রয়েছে—১৬ বছর বয়সী ছেলে সালেহীন ওহি এবং ১০ বছর বয়সী মেয়ে হাসিন ওয়ামী। তার স্বামী সোহেল রানা উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করা হবে।
(ঢাকাটাইমস/০২ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































