অবশেষে হত্যাকারি মায়ের কথিত প্রেমিক গ্রেপ্তার: উদ্ধার রুহির দেহাবশেষ

চার বছরের শিশু চাঞ্চল্যকর রাকিবা আক্তার রুহিকে অপহরণ করে হত্যার অভিযুক্ত মায়ের পরকীয়া প্রেমিক রিপন টুডুরকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে আসামি রিপন টুডুর স্বীকারোক্তি ও দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে সোমবার রাতে শিশু রুহির গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুর সদর উপজেলার ১ নম্বর চেহেলগাজী ইউনিয়নের নশিপুর জামতলী এলাকায়।
এর আগে শিশু রুহিকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে মায়ের কথিত প্রেমিক রিপন টুডুকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টা দিনাজপুর-দশমাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী। এ সময় অভিযুক্ত রিপন টুডুর বাড়িতে ভাঙচুর এবং তার মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র মহাসড়কে এনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে বিকেল ৫ টার দিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধরা।
স্থানীয়রা জানান, নশিপুর গ্রামের জমসেদ আলীর মেয়ে জিন্নাতুনের (১৯) সঙ্গে একই এলাকার মৃত নেপাল টুডুর ছেলে রিপন টুডুর (৩৫) সম্পর্ক ছিল। এর আগে জিন্নাতুনের অন্যত্র বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে রাকিবা আক্তার রুহি নামে চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। ছয় মাস আগে জিন্নাতুন রিপনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং মেয়েকে নিয়ে তার বাড়িতে বসবাস করছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
ঘটনার তিন দিন আগে জিন্নাতুন কোতোয়ালি থানায় রিপনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রিপন তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেন। গত ৫ জুন বিকেলে তার চার বছরের মেয়ে রুহিকে হত্যা করে অজ্ঞাত স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে শনিবার রাত থেকে জিন্নাতুন ও রিপন দুজনই নিখোঁজ ছিলেন। তাদের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। রোববার দুপুরে স্থানীয়রা রিপনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। পরে তার মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্র মহাসড়কে এনে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শিশু রাকিবা আক্তার রুহিকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো মামলা হয়নি এবং অভিযোগে নাম থাকা রিপনসহ কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা কোনো প্রভাবের কারণে বাধাগ্রস্ত না করার দাবি জানান তারা।
খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধরা।
এ ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম তৎপরতায় প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত রিপন টুডুকে।
তার স্বীকারোক্তি মতে দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে রাত সাড়ে ১১টায় উদ্ধার করা হয় শিশু রুহির দেহাবশেষ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান।
(ঢাকা টাইমস/২২সেপ্টেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











