যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ ভারতীয় আইটি জায়ান্টগুলো, গ্রিন কার্ডে বড় ধাক্কা

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১২| আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৭
অ- অ+

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় কর্মীদের চাকরি রক্ষার যুক্তিতে স্থায়ী শ্রম সার্টিফিকেশন কর্মসূচি থেকে বিশ্বের বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে ভারতের আইটি জায়ান্টগুলো নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় প্রযুক্তি পেশাজীবীদের গ্রিন কার্ডে বড় ধাক্কা পড়ল।

মার্কিন শ্রমসচিব কিথ সান্ডারলিং বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মার্কিন অ্যান্টি-ফ্রড টাস্ক ফোর্সের প্রধান এবং মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া ভারতীয় কোম্পানিগুলো হলো কগনিজেন্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো এবং এইচসিএল-এর মতো ভারতের শীর্ষ আইটি প্রতিষ্ঠানগুলো। পাশাপাশি নাম রয়েছে ক্যাজেমিনি, মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবির মতো পশ্চিমা প্রযুক্তি জায়ান্টদের।

কিথ সান্ডারলিং বলেন, ‘আমি বিশ্বের বড় বড় আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান কগনিজেন্ট, ইনফোসিস, টাটা, উইপ্রো, এইচসিএল এবং ক্যাপজেমিনির পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ স্থগিত করছি।’

মার্কিন সরকার এখন থেকে এই কোম্পানিগুলোর সঙ্গে জড়িত নতুন কোনো আবেদন গ্রহণ করবে না এবং চলমান কোনো আবেদনও প্রক্রিয়াজাত করবে না বলে জানান কিথ।

এতে এই খাতে যুক্তরাষ্ট্রে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ থেকে স্বল্প খরচে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য কঠিন করে তুলছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিবছর অনুমোদিত এইচ-১বি ভিসার বড় একটা অংশ দখল করেন ভারতীয় আইটি পেশাজীবীরা।

২০০৯ সাল থেকে এই কোম্পানিগুলো প্রায় ৩০ লাখ বিদেশি কর্মীর আবেদন করেছে। এ পর্যন্ত তারা ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসার অনুমোদন এবং ১ লাখের বেশি স্থায়ী শ্রম সার্টিফিকেশন পেয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন কর্মীদের লাখ লাখ চাকরি কেড়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মার্কিন শ্রম সচিব সান্ডারলিং।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা স্থায়ী কর্মসংস্থান ও বসবাসের জন্য বিদেশি কর্মীদের স্পন্সর করতে পারেন।

মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে কঠোর আক্রমণ চালিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, এই কোম্পানিটিই এই সিস্টেমের সবচেয়ে বেশি অপব্যবহার করেছে।

ভ্যান্স জানান, মাইক্রোসফট প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল যে তারা পর্যাপ্ত যোগ্য মার্কিন কর্মী পাচ্ছে না, আর এই অজুহাতে তারা ২০২৫ সালেই ৬ হাজার মার্কিন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। অথচ একই সময়ে কোম্পানিটি ৬ হাজারের বেশি এইচ-১বি ভিসার অনুমোদন পায় এবং প্রায় ৩ হাজার ৬৮২টি পিইআরএম আবেদন দাখিল করে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার আবেদন ছিল চাকরিচ্যুত হওয়া মার্কিন কর্মীদের একই পদের বিপরীতে।

ভ্যান্সের মতে, এটি মার্কিন কর্মী এবং মার্কিন জীবনধারার প্রতি এক মৌলিক অপমান। সেরা এবং প্রতিভাবানদের অ্যাক্সেস নিশ্চিত করার জন্য ডিজাইন করা ভিসা প্রোগ্রামগুলোকে মার্কিন কর্মীদের মজুরি কমিয়ে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যায় না।

ভারতের প্রযুক্তি খাতের সংগঠন নাসকম জানিয়েছে, ভারতীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এইচ-১বি ভিসার ওপর তাদের নির্ভরতা অনেকটাই কমিয়ে এনেছে।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘যদিও এই সিদ্ধান্ত একটি নির্দিষ্ট অভিবাসন পথকে প্রভাবিত করেছে, তবে নাসকম ধারাবাহিকভাবে বলে আসছে যে অভিবাসন এবং দক্ষ প্রতিভা গতিশীলতা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং এদের একই চশমায় দেখা উচিত নয়।’

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
রিজার্ভ বেড়ে এখন ৩৬.১৫ বিলিয়ন ডলার
মেয়ের জন্মদিনের কেক কিনতে গিয়ে বাসচাপায় সৌদি প্রবাসী যুবক নিহত
আজ বিশ্ব ডিম দিবস
আজ বৃষ্টির সঙ্গে কমতে পারে তাপমাত্রা