বিমান-পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরামর্শ সংসদীয় কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২১:৩৮
অ- অ+

আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাত গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয় বলে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশকে অন্যতম প্রধান অ্যাভিয়েশন হাব ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের অধীন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সামগ্রিক কার্যক্রম বৈঠকে বিস্তারিত উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ দেশের ২৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চলাচল করে। এসব গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের দাম্মাম, জেদ্দা, রিয়াদ ও মদিনা; সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি; ভারতের দিল্লি ও চেন্নাই; যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টার; ওমান, কুয়েত, কাতার, ইতালি, কানাডা, নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন ও জাপান।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে ১৯টি নিজস্ব উড়োজাহাজসহ মোট ২১টি উড়োজাহাজ রয়েছে।

বিমানের পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক রুটে নতুন গন্তব্য হিসেবে মালে, চীনের কুনমিং, সিডনি, জাকার্তা, সিউল ও উহানে সেবা সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। বাহরাইনে ফ্লাইট পুনঃপ্রবর্তনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ক্যাটাগরি-১-এ উন্নীত হওয়া সাপেক্ষে নিউইয়র্কে ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে বিমানের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার কার্যক্রমের কথাও প্রতিবেদনে জানানো হয়।

পর্যটন খাত ২০২৪ সালে দেশের জিডিপিতে ৩ দশমিক ০২ শতাংশ অবদান রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০৩০ সালে এই অবদান ৬ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

পর্যটন খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদেশি ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, বাজেটের সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃদ্ধি, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয়, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে পর্যটনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রমের বাস্তবায়িত অংশ এবং শূন্যপদগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার সুপারিশ করেছে। শূন্যপদ পূরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করা হয়।

বৈঠকে কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের অ্যাভিয়েশন খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত থেকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জসীম উদ্দীন আহমেদ, সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, কামরুল হাসান ও আবু তালিব অংশ নেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে: ইস্তাম্বুল সামিটে আইনমন্ত্রী
বিআরটিসির নতুন চেয়ারম্যান তারিকুল ওমর, বস্ত্র ও পাটে লতিফ মোল্লা
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ, বাণিজ্য-বাণিজ্যনিয়ে আলোচনা
মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করতে আরও আন্তরিকভাবে কাজের নির্দেশ হাইওয়ে পুলিশ প্রধানের