চট্টগ্রামে ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতরে স্বর্ণবার, ঢাকায় দুই যাত্রীর দেহে স্বর্ণপেস্ট

চট্টগ্রাম ও ঢাকার দুই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক অভিযানে প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণ ও স্বর্ণপেস্ট জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। গতকাল রবিবার সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতর থেকে ৪৬৬ গ্রাম স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই যাত্রীর দেহে লুকানো অবস্থায় ছয়টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়। এসব বস্তুর প্রাথমিক ওজন ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দুটি অভিযানে জব্দ করা স্বর্ণ ও স্বর্ণপেস্টের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।
সোমবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, গতকাল সকাল সাতটার দিকে আবুধাবি থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের BS350 ফ্লাইটে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন এক যাত্রী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগে থেকেই গ্রিন চ্যানেলে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।ওই যাত্রী ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার বহনের ঘোষণা দিলেও অতিরিক্ত স্বর্ণ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে অন্যান্য সংস্থার উপস্থিতিতে তার ব্যাগেজ তল্লাশি করা হয়। এ সময় ফ্রাইপ্যান ও সবজি গ্রেটারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো চারটি খণ্ডিত স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়। এগুলোর ওজন ৪৬৬ গ্রাম।
ঘোষিত ১০০ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ মোট ৫৬৬ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করা হয়। শুল্ক-করসহ এসব স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য ৯৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, একই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে মালদ্বীপ থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের BS338 ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন দুই যাত্রী। তাঁদের দেহ তল্লাশি করে রেক্টামে লুকানো অবস্থায় প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনটি করে মোট ছয়টি ডিম্বাকৃতির স্বর্ণপেস্টের বস্তু উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা ছয়টি বস্তুর প্রাথমিক ওজন ২ কেজি ৭৩৪ গ্রাম। এগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র।
তবে এসব স্বর্ণপেস্টের বস্তুতে প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আলামতের যথাযথতা সংরক্ষণের স্বার্থে বস্তুগুলো অবিকৃত রাখা হয়েছে। উপযুক্ত পরীক্ষার পর বিশুদ্ধ স্বর্ণের পরিমাণ ও প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করা যাবে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, গোপন তথ্য, নিবিড় নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক যাত্রী তল্লাশির মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












