মিষ্টির শূন্য আসনে বিএনপির মনোনয়নে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় যারা, যে কারণে সাবরিনাই হতে পারেন সর্বোত্তম বিকল্প

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চূড়ান্ত হতে পারে আজ। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম জমা দিয়েছেন ৬৮ জন নারী নেত্রী। তাঁদের মধ্যে চারজনকে ঘিরে দলীয় অঙ্গনে আলোচনা বেশি।
আলোচনায় থাকা চার নেত্রী হলেন সৈয়দ সাবরিনা সিদ্দিকী, সাবিনা খান, সৈয়দ আবিদা হোসেন ও সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। তাঁদের মধ্যে কেউ বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্যের পরিবারের সদস্য, আবার কেউ আগে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বোর্ডের সদস্যরা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর তৎকালীন সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ১ অক্টোবর তিনি পদত্যাগ করেন। একই দিন আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
বেশি আলোচনায় যারা
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে সৈয়দ সাবরিনা সিদ্দিকী আলোচনায় রয়েছেন। তিনি ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজুর স্ত্রী। সাবরিনা সিদ্দিক সাবেক বিএনপি সংসদ সদস্য ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ডেপুটি মেয়র এস এ খালেকের পত্রবধূ। যিনি ৭৯ সাল থেকে ৫ বার এমপি ছিলেন। তবে বিএনপির অন্যতম পুরনো নেতা ও ওই পরিবারের বিএনপিতে অবদান আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রয়েছে মিরপুরের বাসিন্দা সাবরিনার।
সাবরিনার স্বামী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু প্রয়াত এস এ খালেকের জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বিগত সময়ে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ৮২টি হয়রানিমূলক মামলা করা হয়।
আলোচনায় থাকা আরেকজন সাবিনা খান। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত কমর উদ্দিনের মেয়ে। বাবার মৃত্যুর পর তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
সৈয়দ আবিদা হোসেনও মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন। তিনি সিলেট-৬ আসনের সাবেক বিএনপি সংসদ সদস্য প্রয়াত সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে। দলীয় রাজনীতিতে পারিবারিক উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া আগেও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তাঁর স্বামী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন।
১২ নভেম্বর উপনির্বাচন
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া ছাড়া কোনো সংরক্ষিত নারী আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে। সে হিসাবে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ১২ নভেম্বর উপনির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করেছে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ২৬ অক্টোবর, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৭ অক্টোবর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর আসনটি বিএনপির জন্য বরাদ্দ থাকায় দলটি থেকেই প্রার্থী মনোনীত হবেন। একক প্রার্থী থাকলে ভোট ছাড়াই তিনি নির্বাচিত হতে পারেন। তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে নির্বাচনের প্রয়োজন হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনসংখ্যার অনুপাতে বিএনপি সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টির মধ্যে ৩৬টি পেয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল এসব আসনে বিএনপির মনোনীত ৩৬ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশিত হয়। তাঁরা ৩ মে শপথ নেন।
ফরম বিক্রি ও জমায় বিএনপির আয় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা
গত শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ফরম সংগ্রহ করেন। পরদিন শনিবার পূরণ করা ফরম জমা দেন তাঁরা।
প্রতিটি মনোনয়ন ফরমের মূল্য ছিল ৫ হাজার টাকা। ফরম জমার সময় দিতে হয়েছে আরও ৫০ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতিটি আবেদন বাবদ মোট ৫৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা।
৬৮ জনের ফরম জমা দেওয়ার হিসাবে দলটির আয় হয়েছে ৩৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ফরম সংগ্রহ করেও জমা না দেওয়া দুজনকে হিসাবে ধরলে মোট আয় দাঁড়ায় ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
মনোনয়ন নিয়ে ব্যস্ত প্রার্থীরা
দলীয় নেতারা বলছেন, একটি আসনের বিপরীতে ৬৮ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় প্রার্থী বাছাইয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকায় সংসদ সদস্য হওয়ার আগ্রহও বেড়েছে।
তাঁদের ভাষ্য, মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে দলের জন্য ত্যাগ, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ কারণে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের রাজনৈতিক অবদান ও যোগ্যতা তুলে ধরছেন।
মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া অন্য নেত্রীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহানা আক্তার সানু, আয়শা সিদ্দিকা মনি, সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা ও সিমকী ইমাম খান। এ ছাড়া মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর বেগম, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় মানব উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ফারহানা আতিকা এবং ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লাসহ আরও কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন।
সব মিলিয়ে ৬৮ জনের মধ্য থেকে কাকে সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয় বিএনপি, এখন সেদিকেই নজর দলটির নেতাকর্মীদের।
(ঢাকাটাইমস/১৯ অক্টোবর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













