শ্রীপুরে অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে পৌরসভার কোটি টাকার রোড রোলার-এক্সকাভেটর

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার কোটি টাকার বেশি মূল্যের যানবাহন ও বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে অরক্ষিত অবস্থায়। খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা এসব সম্পদের মধ্যে রয়েছে রোড রোলার, ট্রাক, প্যাগোডা, এক্সকাভেটরসহ বিভিন্ন নির্মাণ ও পরিবহন সরঞ্জাম। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এরই মধ্যে অনেক যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরেছে এবং কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে শ্রীপুর পৌরসভার জেলা পরিষদ ডাকবাংলোসংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। সেখানে কোনো ধরনের নিরাপদ সংরক্ষণ ছাড়াই পড়ে থাকতে দেখা যায় পৌরসভার একাধিক যানবাহন ও ভারি যন্ত্রপাতি। দীর্ঘদিন ধরে রোদ-বৃষ্টিতে পড়ে থাকায় এগুলোর বিভিন্ন অংশ ক্ষয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগণের করের অর্থে কেনা এসব মূল্যবান সম্পদ এভাবে ফেলে রাখায় একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সচল বা মেরামতযোগ্য যন্ত্রপাতিও ধীরে ধীরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কোটি টাকার সম্পদ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পৌরসভার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পড়ে থাকা কিছু মূল্যবান সরঞ্জাম অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশে অচল করে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখার অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় পৌরসভার অনেক মূল্যবান সম্পদ এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ার পথে। এদিকে এসব যানবাহন ও যন্ত্রপাতির প্রকৃত অবস্থা নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন। কোনটি সচল, কোনটি মেরামত করলে ব্যবহার করা সম্ভব এবং কোনটি একেবারেই অকেজো—তার হালনাগাদ তালিকা ও হিসাব জনসম্মুখে থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রপাতি দ্রুত মেরামত করে পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে কাজে লাগানো উচিত। আর যেসব সরঞ্জাম সম্পূর্ণ অকেজো, সেগুলো সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে নিলাম বা যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা দরকার।
এ বিষয়ে শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. নাহিদ ভুঁইয়া বলেন, সরকারি নষ্ট ও অব্যবহৃত মালামাল ক্রয়-বিক্রয় কিংবা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হয়। তাই নিয়ম মেনেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট বা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা পৌরসভার মালামাল নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পৌরসভার সব সম্পদ ও মালামালের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। পড়ে থাকা প্রতিটি যানবাহন ও যন্ত্রপাতির তালিকা তৈরি, বর্তমান অবস্থা যাচাই, মেরামতযোগ্যগুলো সচল করা এবং অকেজো সম্পদ বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পৌরসভার মূল্যবান সম্পদ যাতে এভাবে নষ্ট না হয়, সে জন্য নিরাপদ সংরক্ষণ ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জনগণের অর্থে কেনা কোটি টাকার এসব সম্পদ এখন রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার পথে। প্রশাসকের আশ্বাসের পর এবার বাস্তবে কত দ্রুত এসব সম্পদ রক্ষা ও কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
(ঢাকা টাইমস/৭নভেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













