দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের ৩০ কোটি ডলার অনুমোদন

দেশের প্রাক্-প্রাথমিক ও প্রাথমিক পর্যায়ের ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিক্ষার মান বাড়াতে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের (প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) ঋণ অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক পর্ষদ ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন’ কর্মসূচির আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দেয়।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা অর্জন এবং সামগ্রিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে কাজ করা হবে।
সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের বৃহত্তম ব্যবস্থাগুলোর একটি, যেখানে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ২ কোটিরও বেশি শিশু পড়াশোনা করছে। গত দুই দশকে বাংলাদেশ প্রায় সব শিশুকে বিদ্যালয়ের আওতায় আনতে পারলেও শেখার মানে এখনো বড় ঘাটতি রয়েছে। দেশের ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় অর্ধেকই বয়স উপযোগী সাধারণ লেখা পড়ে তা বুঝতে পারে না। নতুন এই কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের শ্রেণি অনুযায়ী পড়া, লেখা ও গণিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে ভূমিকা রাখবে এবং সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসম বলেন, "বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম কর্মশক্তি গড়ে তুলতে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। গত দুই দশকে বাংলাদেশের প্রায় সব শিশুকে বিদ্যালয়ে আনতে আমরা সহায়তা করেছি। নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ে ধরে রাখার সুযোগ বাড়বে, যা ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করবে।"
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের সাক্ষরতা ও গণিতের ভিত্তি মজবুত করতে পাঠদানের উপকরণ, পরিকল্পিত পাঠক্রম এবং শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণসহ একটি সমন্বিত প্যাকেজ চালু করা হবে। এ ছাড়া দেশের ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ববিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা হবে। পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে বিশেষ রেমিডিয়াল লার্নিং বা বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট ও কর্মসূচির টিম লিডার তাশমিনা রহমান বলেন, "ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের জন্য মৌলিক শিক্ষার ভিত্তি শক্ত হওয়া জরুরি। এই কর্মসূচি শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব বিকাশ, বাজেট ব্যবহারে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্যের কার্যকর প্রয়োগে সহায়তা করবে।"
বিশ্বব্যাংকের ধারণা, এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এই অর্থায়ন আসছে বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে। ২৫ বছর মেয়াদি এই ঋণের ক্ষেত্রে প্রথম পাঁচ বছর রেয়াতকাল বা গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে সুবিধা পাবে বাংলাদেশ।(ঢাকাটাইমস/০৭ নভেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













