তৃণমূল শুধু দলের শক্তি নয়, তৃণমূলই দলের প্রাণ!

বিএনপি বিপুল জনসমর্থন নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি কথা বেশ আলোচিত হচ্ছে—দলের তৃণমূল পর্যায়ে নাকি ক্ষোভ, হতাশা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি,শুনেছি,বোঝার চেষ্টা করেছি।
আমার উপলব্ধি, তৃণমূলের মধ্যে ক্ষোভের চেয়ে অভিমানের তীব্রতাই বেশি। এই অভিমান নিজের প্রতি, দলের প্রতি, এমনকি প্রিয় নেতৃত্বের প্রতিও।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা খুব বেশি কিছু চান না। তৃণমূল চান স্বীকৃতি,মর্যাদা ও সম্মান। তাঁরা শুধু একবার নেতৃত্বের মুখ থেকে শুনতে চান,এই বিজয়ের পেছনে তোমাদের ত্যাগ,শ্রম, সাহস ও অবদান আমরা ভুলে যাইনি।
যে মানুষগুলো বছরের পর বছর রাজপথে থেকেছেন,খেয়ে না খেয়ে দলের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন,জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন, হামলা-মামলা, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে লড়াই চালিয়ে গেছেন, তাঁদের অনেকেই আজ নিজেদের দলের ভেতরেই যেন পরবাসী!
তৃণমূলের সবচেয়ে বেশি কষ্টের জায়গাটি এখানেই।
যাঁদের কটূক্তি, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য সহ্য করে,প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়ে রাজপথে লড়াই করেছেন, আজ তাঁদের অনেকেই দলের সামনের সারিতে। দীর্ঘ ১৭ বছর যাঁরা নিরাপদ দূরত্বে ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখন নেতৃত্বের কাছাকাছি। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে এই সমস্ত হাইব্রিডরা পদ পদ পদবীর দাবিদার হিসাবে নিজেকে জাহির করছে, অন্যদিকে- দুঃসময়ের পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত,রক্তক্ষরণে তাদের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত।
অবশ্যই নতুন মানুষ দলে আসবে,নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে। দলকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করতে হবে।কিন্তু নতুনদের জায়গা করে দিতে গিয়ে পুরোনো ত্যাগীদের অবদান যেন বিস্মৃত না হয়।
সুসময়ে দলের পরিধি বাড়ে, কিন্তু দুঃসময়ে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখেন তৃণমূলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা।
তাঁদের অভিমানকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। কারণ এই অভিমান কোনো পদ-পদবি কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়; এটি নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব, আত্মমর্যাদা ও দীর্ঘদিনের ত্যাগের স্বীকৃতি পাওয়ার আকুতি।
আমি আন্তরিকভাবে আশা করব,দলের হাইকমান্ড বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন হবে তাঁদের ত্যাগ, সাহস, অবদান ও পরীক্ষিত রাজনৈতিক ভূমিকার ভিত্তিতে।যার যতটুকু অবদান, সে যেন ততটুকু সম্মান ও স্বীকৃতি পায়।
মনে রাখতে হবে,ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরি করে দেয় তৃণমূল, আর সেই তৃণমূলকে অবহেলা করে কোনো রাজনৈতিক দলের দীর্ঘমেয়াদি শক্তি ও ভিত্তি টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
তৃণমূলের অভিমান ভাঙাতে হবে। তাঁদের হৃদয়ে এই বিশ্বাস ফিরিয়ে দিতে হবে—এই দল তাঁদেরও, এই বিজয় তাঁদেরও, এই রাষ্ট্র পরিচালনার স্বপ্নেও তাঁদের সমান অংশীদারত্ব রয়েছে।
কারণ তৃণমূল শুধু দলের শক্তি নয়, তৃণমূলই দলের প্রাণ!
লেখক: সংসদ সদস্য, বিএনপি, লক্ষ্মীপুর-১, রামগঞ্জ
(ঢাকাটাইমস/০৭ নভেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













