শিরোনাম :

নতুন সংসার শুরুর আগেই চলে গেলেন তিতাস, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শোক প্রকাশ

সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৭:০২
অ- অ+

মাত্র কয়েক দিন আগে বিয়ে করে নতুন জীবনের স্বপ্ন বুনেছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭)। পরিবারে ছিল আনন্দ, স্বজনদের মধ্যে ছিল নতুন সংসার ঘিরে নানা আয়োজন ও স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। দেশের মানুষের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর থেকেই ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকার পরিবেশ।

তিতাসের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিতাস শেখ জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

শোকবার্তায় শামা ওবায়েদ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত বাবা, পরিবারের সদস্য, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে শোকাহত পরিবারকে এই অপূরণীয় শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য কামনা করেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন সেনাসদস্য তিতাস শেখ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আভিযানিক দল বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মানবপাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। একপর্যায়ে সেনাসদস্য তিতাস শেখ বাঁ কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ অভিযানে জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চারটি গুলি উদ্ধার করা হয়।

১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার জানান, যৌথভাবে পাহাড়ে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য তিতাস শেখ গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে শুক্রবার সকালে তিতাসের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার বলেন, ‘আমার ভাগিনা তিতাসের মরদেহ আজ বিকেলে বাড়িতে আনা হবে। এরপর জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হবে। তিতাস অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র স্বভাবের ছেলে ছিল। মাত্র কয়েক দিন আগে সে বিয়ে করেছে। নতুন সংসার শুরুর আগেই এভাবে তার চলে যাওয়া আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।’

নিহত তিতাস শেখ নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আফজাল শেখ। তিনি ছিলেন পরিবারের প্রিয় সন্তান এবং স্বজনদের কাছে অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র স্বভাবের একজন মানুষ। তাঁর এমন অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিতাসের এই আত্মত্যাগ পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছে গভীর বেদনার হলেও তাঁর সাহসিকতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

(ঢাকা টাইমস/৬নভেম্বর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান ইশরাকের
ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী
রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান, প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত শীষক সে‌মিনা‌র
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবলীগের ঝটিকা মিছিল