ইউরোপ জুড়ে বিমানে বোমা হামলার হুমকি, যুদ্ধবিমান প্রহরায় জরুরি অবতরণ

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিমানে বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে জরুরি অবতরণ করেছে বেশ কয়েকটি বিমান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতালি, ফ্রান্স ও বুলগেরিয়ায় সামরিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইউরোপীয় অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচল করা অন্তত ২৭টি ফ্লাইটে বোমা থাকার হুমকি পাওয়া যায়। এরপর কয়েকটি বিমানকে গতিপথ বদলে অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করতে হয়।
ইতালির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রাই নিউজের প্রতিবেদন থেকে যায়, ইইউর লো-কস্ট বিমান কোম্পানি রায়ানএয়ার, উইজ এয়ার, ফিনএয়ার, অ্যার লিঙ্গাস ও লট পোলিশ এয়ারলাইন্সসহ একাধিক বিমান সংস্থা রয়েছে বোমা হামলার হুমকির তালিকায়।
বোমা হামলার হুমকির ঘটনায় ইতালি, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, স্পেন, পোল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ফ্লাইট ব্যাহত হয়।
ইতালির মিলান মালপেনসা বিমানবন্দর থেকে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশগামী উইজ এয়ারের একটি এয়ারবাস এ৩২১ উড়োজাহাজ উড্ডয়নের পর বোমা হামলার হুমকি পায়। বিমানটির গতিপথ পরিবর্তন করে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অবতরণ করানো হয়।
মিলানের মালপেন্সা বিমানবন্দরে হেলসিংকি থেকে আসা এজিয়ান এয়ারলাইন্স এবং পর্তুগালের পোর্তো থেকে আসা রায়ানএয়ারের দুটি ফ্লাইট বোমা থাকার হুমকি পেলেও নিরাপদে অবতরণ করে। তবে যাত্রী, লাগেজ ও উড়োজাহাজে বিশেষ তল্লাশি চালিয়ে বোমাজাতীয় কিছু পাওয়া যায়যন্।
ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কি থেকে রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরগামী ফিনএয়ারের একটি ফ্লাইটেও বোমা হামলার হুমকি আসে। পরে ইতালীয় বিমানবাহিনীর দুটি ইউরোফাইটার যুদ্ধবিমান উড়োজাহাজটিকে পাহারা দিয়ে নিরাপদে ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে অবতরণ করায়।
ডাবলিন থেকে রোমগামী অ্যার লিঙ্গাসের একটি এয়ারবাস এ৩২০ উড়োজাহাজেও বোমা হামলার হুমকি পাওয়া যায়। ফরাসি সামরিক যুদ্ধবিমান পাহারা দিয়ে বিমানটিকে নরম্যান্ডির এভ্রু সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করায়।
এ ঘটনায় বিমানটির পাইলটের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, পাইলট প্রথমে সামরিক বিমানঘাঁটিতে অবতরণের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
জানা গেছে, রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো ইমেইলে নিজেদের ‘কমবাটেন্তি দেল্লো স্তাতো মাসকিলে’ বা ‘মেল স্টেটের যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেয় হুমকিদাতারা। তবে হুমকিদাতাদের প্রকৃত পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোজেত্তো বলেছেন, কেউ পরিকল্পিতভাবে ইউরোপে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












