মানিকগঞ্জে ট্রিপল মাডার মামলায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে খালাসও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন— সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়ার উদ্দিন, সামসুল হকের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম, আ. রশিদ, জসিম এবং আলী মিয়ার ছেলে সিদ্দিক মিয়া। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আট আসামি হলেন— একই উপজেলার সামেজ উদ্দিনের ছেলে মো. জহির উদ্দিন, আহম্মদ আলীর ছেলে আজিজুল ও উজ্জল, ফালানের ছেলে মো. সামসুল হক, জহির উদ্দিনের ছেলে সালাউদ্দিন, নুরু মিয়ার ছেলে মাজেদ মিয়া, বান্দু মিয়ার ছেলে মো. মরণ এবং নমন আলীর ছেলে স্বপন। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া একই এলাকার শুকুর জোলার ছেলে শামীম ও চাঁন মিয়ার ছেলে হাবু মিয়াকে দণ্ডবিধির ৩২৬/৩৪ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ফালান মিয়ার ছেলে মজনু মিয়াকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই এলাকার রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ছয় মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে একই এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে উজ্জ্বল, সওদাগরের ছেলে ওলী আহাদ, চানদের ছেলে শুকুর জোলা ও রাজা জোলাকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার।
মামলার নথি ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তার স্বামী ও সন্তান না থাকায় মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তার স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি।
২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশ বৈঠকের দিন ধার্য ছিল। তবে ওই দিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে জসিম তাঁর মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে পৌঁছালে রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ হামলায় আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে তাদের তিনজনেরই মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন মো. ফরিদা আক্তার।
তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পিপি আ ফ ম নুরতাজ আলম বাহার বলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনজনকে হত্যার ঘটনা ঘটে। মামলার শুনানিতে ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট।
(ঢাকা টাইমস/৫নভেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










