শিরোনাম :

কারাগারের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে ৭ দফা নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৮
অ- অ+

দেশের কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছে কারা অধিদপ্তর। এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে লকআপের পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ, ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি, দায়িত্বে অননুমোদিত অনুপস্থিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দায়িত্বে অবহেলাকারীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ।

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিম বলেন, নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অধিদপ্তর ইতিমধ্যে তদারকি জোরদার করেছে। দেশের প্রতিটি কারাগারে প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কারাগারগুলোকে নিয়মিতভাবে অধিদপ্তরের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্দেশনাগুলো কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধিদপ্তরের অপারেশনাল শাখাকে। এ ছাড়া কারাগারগুলো তদারকির জন্য ডেপুটি জেলারসহ অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্নেল মেসবাহুল আলম সেলিমের দাবি, সাত দফা নির্দেশনার অন্তত ৯০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এসব উদ্যোগের সুফল দৃশ্যমান হবে বলে আশা করছেন তাঁরা। দায়িত্বে অবহেলার জন্য দোষী সাব্যস্ত কারা কর্মীদের এক কারাগার থেকে অন্য কারাগারে বদলির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লকআপের পরবর্তী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নিতে হলে জেলারের লিখিত অনুমোদন নিতে হবে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট রেজিস্টারে তা নথিভুক্ত করতে হবে।

প্রতিটি কারাগারে ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে পৃথক পর্যবেক্ষণ কক্ষ স্থাপন এবং প্রশিক্ষিত ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ কারারক্ষীদের এ কাজে নিয়োজিত করতে বলা হয়েছে। পৃথক কক্ষের ব্যবস্থা না থাকলে উপযুক্ত স্থানে মনিটর স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাতে হবে।

দায়িত্ব পালনকালে কোনো প্রহরী বা নিরাপত্তাকর্মী অনুমতি ছাড়া নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করলে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত প্রতিবেদন দিতে হবে। এ ধরনের ঘটনায় প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা বা অননুমোদিত অনুপস্থিতির ঘটনা গোপন করা কিংবা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

বারবার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রমের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের বদলি কিংবা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া বৃষ্টি ও বজ্রপাতসহ প্রতিকূল আবহাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় প্রহরীদের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে।

কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রাখতে সুপারিনটেনডেন্ট, জেলার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি এবং আকস্মিক পরিদর্শন করতে বলা হয়েছে। এসব পরিদর্শনে নিরাপত্তাচৌকি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, প্রহরীদের দায়িত্ব পালন এবং সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করতে হবে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টে জারি করা সাত দফা নির্দেশনায় কারাগারের অভ্যন্তরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে পুরো কারা প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। নিরাপত্তার ত্রুটি রোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বিনা টিকিটে জেমসসহ সাত ব্যান্ডের কনসার্ট, কখন ও কোথায়
হাম উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ১ হাজার ৩১৪
মরিশাসে কাচের বাক্স চাপায় তিন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু
শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপির শোভাযাত্রা