শিরোনাম :

ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে হচ্ছে নতুন তিন সার কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৩| আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২৮
অ- অ+

দেশে সার উৎপাদন বাড়াতে ভোলা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এসব কারখানার মধ্যে ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি এবং নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশে সার উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানো, কৃষি খাতে সারের সরবরাহ জোরদার এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।

বিসিআইসির অধীনে বর্তমানে সাতটি সার কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ইউরিয়া এবং দুটি নন-ইউরিয়া সার কারখানা। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। ওই অর্থবছরে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদিত হয়েছে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, যা মোট চাহিদার ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি সারের চাহিদা ছিল ৭ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে উৎপাদিত হয়েছে ৬৮ হাজার ২৫৯ মেট্রিক টন। অন্যদিকে ডিএপি সারের চাহিদা ছিল ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন, উৎপাদন হয়েছে ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন। অর্থাৎ টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে।

বিসিআইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো ও আধুনিকায়নের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের পরিকল্পনা

দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে ভোলায় নতুন একটি ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কারখানাটিতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটিতে উৎপাদন চালু রাখতে দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। ভোলায় প্রস্তাবিত কারখানাটি বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ, কারিগরি প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিশ্চিত করা জরুরি।

চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ টন টিএসপি উৎপাদনের উদ্যোগ

ফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় নতুন টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। টিএসপি কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় প্রস্তাবিত কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা হবে ৪ লাখ মেট্রিক টন।

বর্তমানে বিসিআইসির টিএসপি কমপ্লেক্সে কাঁচামালের সংকট ও প্ল্যান্টের বিভিন্ন সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন কারখানাটি স্থাপিত হলে টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, টিএসপি সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির কারিগরি ও অর্থনৈতিক দিক পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

পলাশে ইউএফ-৮৫ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা

নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জায়গায় ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) উৎপাদনের জন্য নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা হবে ২৪ হাজার মেট্রিক টন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যমান শিল্প অবকাঠামো ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিল্পপণ্যের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যমান শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জায়গা কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। পলাশের প্রস্তাবিত কারখানার ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রযুক্তি, বাজার চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

নতুন তিনটি কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নির্মাণকাজ থেকে শুরু করে উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ ও দক্ষ শ্রমিকদের পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট সেবা খাতেও কাজের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, নতুন কারখানা স্থাপনের ফলে নির্মাণকাজ, উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে কতজনের কর্মসংস্থান হবে, তা প্রকল্পের চূড়ান্ত নকশা, উৎপাদন প্রযুক্তি ও জনবল কাঠামো নির্ধারণের পর বলা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প খাতে দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাসস

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম
পাইপলাইন থেকে তেল নেয় মাটির নিচে ট্যাঙ্কে, ৪ হাজার ২৯২ লিটার লোপাট
যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানাতে মহাকাশ শক্তি হয়ে উঠছে ইরান: মার্কিন ডিআইএ
৪৪০ হুতি যোদ্ধা ও ১৩২ সামরিক যান নিষ্ক্রিয় করার দাবি ইয়েমেন বাহিনীর