রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের পঞ্চম চালান

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউরেনিয়াম জ্বালানির পঞ্চম চালান পৌঁছেছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে জ্বালানিবাহী লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রূপপুর প্রকল্পের দুটি ইউনিটের জন্য মোট ৯টি চালানে পারমাণবিক জ্বালানি আনা হচ্ছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি হিসেবে ৪৮টি অ্যাসেম্বলি সরবরাহ করা হবে।
আজকের চালানসহ এ পর্যন্ত পাঁচটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। এর আগে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে চারটি চালান দেশে আসে। বাকি চালানগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ২৯ ও ৩০ অক্টোবর পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে বা তার আগেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
কেন্দ্রটি বর্তমানে ২০ শতাংশ তাপীয় ক্ষমতায় পৌঁছেছে। এই সক্ষমতা ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত হলে উৎপাদিত বাষ্পের সাহায্যে টারবাইন ঘোরানো এবং জেনারেটর চালুর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পরীক্ষার ফলাফল ও কারিগরি সক্ষমতা বিবেচনায় ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। প্রথম ছয় মাসের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই এক পর্যায় থেকে অন্য পর্যায়ে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো কারিগরি ত্রুটি বা ভাল্ভ পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল না পাওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পরীক্ষা ও মেরামত করা হচ্ছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে সেখান থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











