রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান, প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত শীষক সেমিনার

পরামর্শ, মতামত ও প্রত্যাশা নিয়ে নীতি নির্ধারণী মূলক আলোচনায় রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ও বিশিষ্ট উদ্ভিদ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত, প্রত্যাশা ও ন্যায্য অধিকারকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক বাস্তবতা এবং ভোগান্তিও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার শহরের একটি মিলনায়তনে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে পরামর্শ, মতামত ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের ফলে দীর্ঘদিন ধরে উখিয়া-টেকনাফসহ কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী নানাভাবে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য পরিচালিত মানবিক কার্যক্রমের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনা সভায় সাংবাদিক, গবেষক, উদ্যোক্তা, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাব, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার নানা দিক নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায়, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা, মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার ও প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দিয়ে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
(ঢাকা টাইমস/৬নভেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










