‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে সরকার: প্রেস মিনিস্টার সাইদুর

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার সাইদুর রহমান।
শনিবার বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত এ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দিবসটি উপলক্ষে হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
আলোচনা সভায় সাইদুর রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। সেদিন সিপাহী-জনতার সম্মিলিত ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল।
তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন বিশেষভাবে স্মরণীয়। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তার দর্শন বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছে। তার নেতৃত্বেই ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হয়।
জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রেস মিনিস্টার বলেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করে। ভারত, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়। তার সময়েই বাংলাদেশ ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় তিনি সার্ক গঠনের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকায় সার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে সাইদুর রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দেখানো আদর্শ ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে সরকারের কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ভারতসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান, আস্থা, সমতা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই সরকারের লক্ষ্য।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও অর্থবহ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খালেদা জিয়ার গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে সাইদুর রহমান বলেন, ৭ নভেম্বর শুধু অতীতের ইতিহাস স্মরণ করার দিন নয়; এটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করেন তিনি, যেখানে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।
আলোচনা সভায় নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সভাপতিত্ব করেন। এতে মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্য সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











