টাঙ্গাইলে ২০ কোটি টাকার সেতুর ঢালাইয়ে রডের বদলে বাঁশ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
  প্রকাশিত : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:২৪
অ- অ+

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রাতের আঁধারে ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ও উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এর আগে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।

জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্য পিএসসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির এন্টারপাইজ (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতুটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ও শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে। পরে সেতুটির কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এই সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ২০ শতাংশ কাজ বাকি আছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ শুরু করে। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তারা বাধা দেয়। এক পর্যায়ে কাজটি বন্ধ করা হয়। এসময় স্থানীয়রা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। স্থানীয়রা চলে যাওয়ার পর রাতে আবার শুরু করে রাতেই মধ্যেই তারা কাজটি শেষ করে। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে কর্তৃপক্ষ পরিদর্শনে আসে।

স্থানীয়রা জানান, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীতে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই স্থানীয়রা নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছিল। সর্বশেষ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ব্রিজের ফুটপাত স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করছিল। বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে কাজটি বন্ধ করে দেয়। সেসময় সাময়িকীর জন্য কাজ বন্ধ করলেও রাতে আবার ঢালাইয়ের কাজটি শেষ করেছে তারা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ব্রিজটি পরিদর্শন করেন। স্ল্যাবগুলো ভেঙে পুনরায় রড দিয়ে ঢালাইয়ের দাবি জানান স্থানীয়রা। সেই সাথে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির জন্য শাস্তিও দাবি করেন।

ঠিকাদার এসএম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘রেলিয়ের পাশে ফুটপাত স্ল্যাবে ৪ ইঞ্চি ঢালাই রয়েছে। স্লাবের নিচে একটা শার্টারিং করতে হয়। ওই শার্টারিংটি আর সেখান থেকে সরানো যাবে না। শার্টারিংটি এমনিতেই নষ্ট হয়ে যাবে। এই শার্টারিংটি করতে হয় বাঁশ অথবা কাঠ দিয়ে। রডের খাঁচা ও পলিথিন দিয়ে এটার ওপর ঢালাই করা হয়। আমরা যখন বাঁশ দিয়ে শার্টারিং করেছি, এতে এলাকার কিছু লোকজনে উদ্দেশ্যপ্রনোদিতভাবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়াতে ভাইরাল করেছে।’

উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমাদেরকে অবগত না করেই রাতে ঢালাইয়ের কাজ করেছে। তারা ফুটপাতে স্ল্যাবের ঢালাই করেছে। এটার নিয়ম হচ্ছে- একটি জায়গায় সুন্দরভাবে ঢালাই করে তারপর ফুটপাতের জায়গায় স্ল্যাব বসিয়ে দিতে হয়। ওনারা তা না করে সরাসরি বাঁশ ও কাঠ দিয়ে শার্টারিং করে তারপর সামান্য কিছু রড দিয়ে ঢালাই করেছে। এটা নিয়মের মধ্যে হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব জায়গায় নিন্মমানের কাজ হয়েছে, সেগুলো ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দ্রুতই কাজগুলো আবার করা হবে। এ ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে সরেজমিনে সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুতই তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

(ঢাকাটাইমস/২১সেপ্টেম্বর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
World Teachers Day and the Hope for Universal Quality Education
মদিনায় ড্রোন হামলায় বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা
শাহজালালে দুই বিমানকর্মীর জুতায় মিলল ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণ
সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে শহিদ তিন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর শাহাদাত বার্ষিকী পালিত