নতুন পে-স্কেলের বেতন নির্ধারণ শুরু: অক্টোবরে বেতনের সঙ্গে মিলবে তিন মাসের বকেয়া

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৪
অ- অ+

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে প্রায় তিন মাসের বকেয়া বা এরিয়ার একসঙ্গে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে কে কত টাকা বকেয়া পাবেন, তা নির্ভর করবে নতুন বেতন নির্ধারণ বা পে-ফিক্সেশনের ওপর।

আগামীকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এ কাজ শেষ করতে হবে।

নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে আইবাস++-এর পে-ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে। এ জন্য নির্ধারিত পোর্টালে প্রবেশ করে চাকরিজীবীদের পরিচয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, বর্তমান পদ ও গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনসহ বিভিন্ন তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে আগের বেতন নির্ধারণের তথ্যও যাচাই করতে হবে।

যেভাবে হিসাব হবে বকেয়া

নতুন কাঠামোয় প্রত্যেক চাকরিজীবীর মূল বেতন পে-ফিক্সেশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্য এবং নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার তারিখ বিবেচনায় নিয়ে বকেয়ার পরিমাণ হিসাব করা হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পে-ফিক্সেশনের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রায় তিন মাসের বকেয়া একসঙ্গে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে সবার বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, নতুন কাঠামোয় নির্ধারিত বেতন এবং বেতন কার্যকরের তারিখের ওপর এর পরিমাণ নির্ভর করবে।

বেতন নির্ধারণের সময় পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার তথ্যও দিতে হবে। এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।

বিশেষ করে নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, পদবি, গ্রেড এবং বেতনসংক্রান্ত তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে। কোনো তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে পে-ফিক্সেশনে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

কার্যকর হবে ধাপে ধাপে

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ওই পার্থক্যের ৭০ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে পুরো নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে। নতুন কাঠামোর ভাতা কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

নতুন বেতন নির্ধারণে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে চাকরিজীবীর মূল বেতনকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হবে। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দুই দফায় মূল বেতনের ৭০ শতাংশ দেওয়ার জন্য ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অনলাইন তথ্য যাচাই হবে

চাকরিজীবীরা অনলাইনে তথ্য দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই করবে। অনলাইনে দেওয়া তথ্য ও জমা দেওয়া নথির মধ্যে অসংগতি পাওয়া গেলে তা সংশোধন করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে শুধু অনলাইনে তথ্য পূরণ করলেই পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হবে না। আগের চাকরির ইতিহাস, পদোন্নতি এবং পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্যের সঙ্গে নতুন তথ্যের সামঞ্জস্য থাকতে হবে। অনলাইনে তথ্য দিতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সহায়তা নেওয়া যাবে।

পে-ফিক্সেশন চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন বিল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীর বকেয়া পাওনার হিসাবও চূড়ান্ত করা হবে। এরপর অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে বকেয়া পাওনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

নতুন বেতনকাঠামোর পে-ফিক্সেশন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইন প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

উচ্চতর গ্রেডে নতুন নিয়ম

নতুন বেতনকাঠামোয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। নতুন বেতন আদেশ অনুযায়ী, কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে আট বছর পূর্ণ করলে এবং চাকরি সন্তোষজনক হলে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাবেন। প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি করলে দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

তবে আগের বেতনকাঠামোয় টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন করে বেতন নির্ধারণে কিছু জটিলতা রয়েছে। এসব বিষয়ও অর্থ বিভাগ পর্যালোচনা করছে।

অর্থ বিভাগের আদেশ অনুযায়ী, আগের বেতনকাঠামোয় একই পদে দুই বা ততোধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোয় ওই পদে আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পাওয়া কর্মচারীরা পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তাই ৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে-ফিক্সেশনের সময় বর্তমান বেতনের পাশাপাশি আগের পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড ও বেতন নির্ধারণের ইতিহাস সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই নতুন মূল বেতন ও বকেয়া পাওনার চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারণ করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/৪ অক্টোবর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
সৌদি আরবে রিয়াদের তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলা
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪২৭, মামলা ৫৪
সুশাসন বনাম মব সংস্কৃতি: আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রের করণীয়
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটিতে আলোচনায় যারা