ইরানকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা, ‘শিরশ্ছেদের আগে এটাই শেষ সুযোগ’

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৭
অ- অ+

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে তেহরান। একই সঙ্গে ইরানকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেছেন, একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য তাদের সামনে এখন ‘শিরশ্ছেদের আগে শেষ সুযোগ’ রয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কাতারসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন।

তবে একই দিনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না।

তেহরানের এ বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখনই কথা বলছি।” তিনি আরও বলেন, “তাদের জন্য একটি ভালো চুক্তিতে সই করার এটাই শেষ সুযোগ। শিরশ্ছেদের আগে আমি তাদের সম্ভাব্য সবশেষ সুযোগ দিতে চাই।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। তাঁর দাবি, এই নৌপথ খুব শিগগিরই, এমনকি ‘আগামীকালই’ খুলে যেতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ বা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরানের সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। পাঁচ মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ইরান এখনো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে দেশটির কাছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও রয়েছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক হামলার হুমকি দিলেও শনিবার তিনি জানান, একটি সম্ভাব্য চুক্তির ‘কাঠামো’ তৈরি হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এ বিষয়ে একটি সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি জানান, দুই দেশের সার্বভৌম অধিকার ও ইরানের জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে একটি গ্রহণযোগ্য নৌপথ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। তবে সমঝোতা হলেও হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। এতে ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো বাধার মুখে পড়ছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

ট্রাম্প ইরানের এ অবস্থানকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, প্রকাশ্যে আলোচনা অস্বীকার করলেও বাস্তবে দুই দেশের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো চুক্তি বা ‘পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া ইরানে কিছুই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, “ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ অবশ্যই হতে হবে।”

পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে রোববার ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)। যদিও জাহাজ ও এর সব নাবিক নিরাপদ ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী অবস্থান, হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের নতুন এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

(ঢাকাটাইমস/০৪ আগস্ট/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও আমাদের প্রত্যাশা
কারাগারে মুজিব পরদেশী
দুই বছরেও মুছে যায়নি ৫ আগস্টের রক্তাক্ত স্মৃতি
ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যকার সংঘর্ষের জন্য দায়ী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী: আবু হানিফ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা