ঢাবিতে সেজেছে নতুন আড্ডাকেন্দ্র সামাজিক বিজ্ঞান চত্বর

শামসুদ্দোহা, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ০৮:৪২| আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৭, ১৫:৩৩
অ- অ+

শিক্ষা, সংস্কৃতি, পরিসর- সব ক্ষেত্রেই দেশের সবচেয়ে বড় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়ানো কিংবা আড্ডা দেয়ার জায়গার কমতি নেই। তবে তার বেশির ভাগই অপরিকল্পিত। শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে বানিয়ে নিয়েছে আড্ডাস্থল। এবার পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে অবসর-বিনোদনের নতুন একটি জায়গা- সামাজিক বিজ্ঞান চত্বর।

কেন্দ্রীয় মসজিদ, সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, ডাকসু, মধুর ক্যান্টিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বেষ্টিত এলাকা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নতুন ভবন এলাকার জায়গাটি উন্মুক্ত থাকলেও সেখানে বিনোদনের কিংবা বসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না এত দিন। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে নির্মাণাধীন ‘সামাজি বিজ্ঞান চত্বর’ সেই অভাব পূরণ করতে চলেছে।

লাইব্রেরিতে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা শেষে একটু খোলা বাতাসে অবসর কাটানোর যে জায়গাটুকু আছে, ‘হাকিম চত্বর’ নামের ওই জায়গায় সবুজ উধাও হয়ে গেছে। সেখানে চা খেতে হয় দাঁড়িয়ে, বন্ধু-সহপাঠীদের সঙ্গে কথা সারতে হতো দাঁড়িয়ে। এখন লাইব্রেরির কাজ শেষে শিক্ষার্থীরা অবসর সময় কাটানোর জন্য বেছে নেন সামাজিক বিজ্ঞান চত্বরকে।

চত্বরেই কথা হলো লাইব্রেরিতে আসা শিক্ষার্থী আতিকুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘লাইব্রেরি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটা স্থান ছিল সময়ের দাবি। আমাদের এখন একটু বিশ্রাম করার জায়গা হয়েছে।’

চারদিকে সবুজে ঘেরা গাছপালা, ছোট ছোট বসার টুল, ঝরনা ঘিরে গোল চত্বর আর কৃত্রিম বৃষ্টির আয়োজন এরই মধ্যে সামাজিক বিজ্ঞান চত্বরটিকে করে তুলেছে আকর্ষণীয়। লাইব্রেরির সামনে থেকে কলাভবনমুখী এবং মধুর ক্যান্টিন থেকে সেন্ট্রাল মসজিদসংলগ্ন রাস্তার পাশে বসানো হয়েছে ছোট ছোট টুল। অবসর সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজকাল এই স্থানটিকেই আড্ডার কেন্দ্র করে নিয়েছেন।

চত্বরের অন্যতম আকর্ষণ ঝরনা। সন্ধ্যায় এতে জ্বলে ওঠে আলো। ক্ষণে ক্ষণে আলোর রঙ পরিবর্তন ঝরনার পরিবেশকে দিয়েছে মোহনীয় রূপ। ঝরনার পাশে যাওয়ার জন্য আছে ছোট্ট সেতু। এর নিচে ছোট ছোট পাথরের সারি। তবে সেতুর নিচে পানি নেই। চত্বরে কর্মরত সজিব জানান, কাজ এখনো চলছে। পুরো কাজ শেষ হলে সেতুর নিচে পানির ব্যবস্থা করা হবে।

সামাজিক বিজ্ঞান চত্বরে ঘুরতে এসেছেন রোকেয়া হলের শিক্ষার্থী উম্মে সুমাইয়া ও জহুরুল হক হলের রাকিব। জায়গাটি নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে রাকিব বলেন, ‘বেশ ভালো লাগে জায়গাটা। বিশেষ করে সবুজের মধ্যে শহুরে আভাস। যেন গ্রাম আর শহরের মেলবন্ধন’।

চত্বরের এক পাশে তৈরি হচ্ছে ছোট ক্যান্টিন ঘর। কাজ শেষ হয়নি এখনো। কর্মরত সজিব জানালেন, ক্যান্টিনের কাজ শেষের পথে। এ মাসের শেষের দিকে কাজ শেষ হবে।

তবে ক্যান্টিনের উপরে দুই পাশে রেলিং দেয়া বেলকনির মতো ছোট্ট যে জায়গাটি করা হয়েছে, একে ইতোমধ্যে ‘বার্থডে অডিটোরিয়াম’ করে নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ছোট ছোট সিঁড়ি ভেঙে প্রতিদিন সেখানে বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির শিক্ষার্থীরা বন্ধু-বান্ধবীর জন্মদিন উদযাপন করছেন।

চত্বরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ফরিদ উদ্দীন বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকেই ভাবনায় ছিল ছেলেমেয়েদের জন্য আলাদা কিছু করার। সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন। ছেলেমেয়েরা যাতে ভালো পরিবেশ পায়, ভালো খাবার খেতে পারে, সেই বিষয়টি সামনে রেখেই সাজানো হচ্ছে চত্বরটি।’

এদিকে এই চত্বরটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-আগ্রহ তৈরি হলেও মূল চত্বরের বেশ কিছু স্থানে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় এর মূল দৃশ্য পালটে যাচ্ছে। বাদামের খোসা, নানা খাবার প্যাকেট পড়ে আছে চত্বরের বিভিন্ন স্থানে। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য চত্বর ঘিরে ইটের সুড়ঙ্গগুলোর বেশির ভাগ বন্ধ হয়ে গেছে ময়লা-আবর্জনায়।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ফরিদ উদ্দীন বলেন, ‘এটির কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। শিগগির আমরা ময়লা ফেলার জন্য ড্রাফট বক্স রাখব। পরিচর্যার জন্য লোকবল নিয়োগের কথাও ভাবছি।’ তবে শিক্ষার্থীদের সচেতনতাই এটি পরিচ্ছন্ন রাখতে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো কয়েকটি স্থানে ছোট ছোট বসার স্থান থাকলেও ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ ভবনবেষ্টিত এই সামাজিক বিজ্ঞান চত্বরটি দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে শিক্ষার্থীদের কাছে। বাড়ছে উপস্থিতি। সবুজে ঘেরা এই চত্বর যেন সব সময় সবুজ আর পরিচ্ছন্ন থাকে, অবসর কাটানো আর বিনোদনের উপযোগী থাকে সব সময়, সেটি নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

(ঢাকাটাইমস/১২জানুয়ারি/মোআ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near ') ORDER BY entry_time DESC,id DESC LIMIT 4' at line 4