হিমবাহ ধসের পর ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল তিব্বত ও নেপাল

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০২
অ- অ+

হিমবাহ ও পাহাড়ধসে ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে তিব্বত ও নেপাল। আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি)। ভূমিকম্পের কম্পন নেপালের বিভিন্ন এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে। খবর আল জাজিরা’র।

ইএমএসসির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ০ বলে জানিয়েছে।

ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রাণহানি, আহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিব্বতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এর আগে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ-পাহাড়ধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৩২৬ জন।

অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতে বন্যা ও সংশ্লিষ্ট দুর্যোগে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫১৯ জন এখনো নিখোঁজ। ফলে নেপাল ও তিব্বতে সম্মিলিত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০০ এবং নিখোঁজ ৫ হাজার ৮৪৫ জন।

নেপালের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা নিশ্চিত করতে কাজ করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে হিমবাহ ও পাহাড় ধসে সড়ক, সেতু ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর সেখানে উদ্ধার অভিযান ১৪তম দিনে প্রবেশ করেছে।

নিখোঁজদের মধ্যে শত শত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীও রয়েছেন। এরই মধ্যে শুক্রবার গভীর একটি টানেলের ভেতর আটকে থাকা দুই নেপালিকে এবং শনিবার একজন চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এতে ধ্বংসস্তূপ ও দুর্গম এলাকায় আরও জীবিত মানুষ উদ্ধারের আশা তৈরি হয়েছে।

তিব্বত ও নেপাল সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এতে পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ ও হ্রদ থেকে আকস্মিক পানি নেমে আসা, ভূমিধস এবং আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে।

হিমালয় অঞ্চলেও এই ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক বন্যা, হিমবাহ ও পাহাড়ধস এবং একের পর এক ভূমিকম্পের ঘটনায় অঞ্চলটির দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে সর্বশেষ ভূমিকম্পের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। দুর্গম পার্বত্য এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।

(ঢাকাটাইমস/৯ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near ') ORDER BY entry_time DESC,id DESC LIMIT 4' at line 4