বিশ্ববাজারে
হঠাৎ কমল স্বর্ণের দাম, সামনে আরও বড় পতনের ইঙ্গিত!

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে থাকায় মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ওঠানামা দেখা গেছে। মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে স্বর্ণের দামে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৩৯০ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে আসে। দিনের শুরুতে অবশ্য দাম ৪ হাজার ৪৪২ দশমিক ৭০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর ডেলিভারির গোল্ড ফিউচারের দাম ০.৯ শতাংশ কমে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৪৩৫ ডলারে দাঁড়ায়।
এর আগে মঙ্গলবার দিনের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৪১৮ দশমিক ৭৯ ডলারে উঠেছিল। এতে দিনের লেনদেনে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা যায়।
কেন কমছে স্বর্ণের দাম?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থান স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি করছে। মূল্যস্ফীতি বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পথে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে।
সুদের হার বাড়লে সাধারণত সুদ না পাওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। ফলে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ স্বর্ণের বদলে সুদভিত্তিক সম্পদে ঝুঁকতে পারেন। এতে স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়লে বিশ্ববাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে ফেডের ভবিষ্যৎ সুদের হার নীতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সামনে কী হতে পারে?
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের দিকে। চলতি সপ্তাহে দেশটির উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রকাশিত হওয়ার কথা।
এই তথ্যগুলো ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মূল্যস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হলে সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা জোরালো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্বর্ণের দামে আরও চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ কম থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে ফেডের সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা বদলে যেতে পারে। তখন স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারেও বর্তমানে উচ্চপর্যায়ে রয়েছে স্বর্ণের দাম। সর্বশেষ নির্ধারিত দামে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা।
সূত্র: রয়টার্স
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন







