ইরানের ৫ তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জর্ডানে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দুই দিনে দুবার মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল—এমন অভিযোগ তুলে ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে এসব ট্যাংকারে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এর জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে জর্ডান। এর মধ্যে ১৮টি ধ্বংস করার দাবি করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। খবর আল জাজিরা’র।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ ছয় মাসে গড়ানোর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জারি করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত দুই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার হামলার চেষ্টা করেছে। তবে মার্কিন জাহাজটি সফলভাবে ওই হামলা এড়িয়ে যায় এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা বা কর্মী আহত হননি।
এরপর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
হামলা চালানো ট্যাংকারগুলোর মধ্যে রয়েছে এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ এবং এম/টি রিয়েস্কো। এসব জাহাজ ওমান উপসাগরে অবস্থান করছিল। এ ছাড়া খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি দেরিয়া নামের আরেকটি ট্যাংকারেও হামলা চালানো হয়।
সেন্টকমের ভাষ্য, হামলার আগে এসব জাহাজের কর্মীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়া হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খার্গ দ্বীপের কাছে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হতো। হামলার পর জাহাজের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে বলে জানায় আইআরআইবি।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে, ইরানের ‘বেশ কয়েকটি’ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানে থাকা আল-আজরাক ঘাঁটিতে ‘তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।
হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার জন্য ব্যবহৃত একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে ইরানি বাহিনী। এর আগে মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, ওই হামলায় জাহাজ দুটিতে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলোতেও হামলার হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। এসব জাহাজে থাকা কর্মীদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংঘাতের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছায়।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের জাহাজে হামলা চালিয়ে যাবে। কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌজাহাজে হামলার চেষ্টা করবে, ততবারই তাদের একটি করে ট্যাংকার হারাতে হবে।
(ঢাকাটাইমস/৯ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন







