‘জিসিসি অঞ্চলের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা মেটাতে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়ার সমন্বয় জরুরি’

বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করে উপসাগরীয় (জিসিসি) দেশগুলোর শ্রমবাজারে প্রবেশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি বলে জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. আমানুল্লাহ বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় জিসিসি দেশগুলোতে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, লজিস্টিকস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক খাতে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী এই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যদি তাদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা যায়।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ক্যারিয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, সফট স্কিল, তথ্যপ্রযুক্তি ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লব সংশ্লিষ্ট দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন এবং শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। আমরা সেদিকেই যাচ্ছি।
বিশিষ্ট এই উন্নয়ন গবেষক বলেন, বাংলাদেশ শুধু জনশক্তি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নয়, বরং দক্ষ ও পেশাদার মানবসম্পদের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিশ্বে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে। সে জন্যে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী আমাদের তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠ্যক্রম এবং বাজারের বাস্তব চাহিদার মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা এখন অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, "বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে হলে আমাদের অদক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে পূর্ণাঙ্গ 'স্কিলড' বা দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে হবে। এজন্য 'ডিমান্ড-ড্রাইভেন সাপ্লাই চেইন' তৈরি করা জরুরি। অর্থাৎ, বিদেশের বাজারে যে দক্ষতার চাহিদা থাকবে, আমাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ঠিক সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিবাসনের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান বাধা হলো ভাষার দক্ষতা। বিশেষ করে জাপান ও কোরিয়ার মতো দেশে ভাষা জানা থাকলে কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (TTC) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পলিটেকনিক ও টিভেট (TVET) প্রতিষ্ঠানগুলোতে 'তৃতীয় ভাষা' শিক্ষা কর্মসূচি যুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে।
ড. মাহ্দী আমিন বলেন, জনশক্তি রপ্তানিতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণে এনএসডিএ (NSDA) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। তারুণ্যের মেধা, আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ধারণ করে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে দক্ষ জনশক্তির এক বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
অ্যারাইজ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক কানিজ ফাতেমা অনুষ্ঠানে সংস্থাটির গবেষণালব্ধ তথ্য ও ১০ বছর মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা (Roadmap) তুলে ধরেন। উপস্থাপনটিতে দেখানো হয় যে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে গমনকারী ৮১.৬ শতাংশ বাংলাদেশি শ্রমিকই অদক্ষ। অথচ ২০৩০ সালের মধ্যে জিসিসি অঞ্চলগুলোতে আইটি, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও লজিস্টিকস খাতে প্রায় ২৫ লাখ দক্ষ পেশাদারদের কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অনুষ্ঠানে নীতি-নির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, কূটনৈতিক প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং ব্যবসায়ী খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































