মন্ত্রীর গাড়িতে মামলা, ‘এত বড় সাহস’ পেলেন যেভাবে ট্রাফিক সার্জেন্ট

ড. আমিনুল ইসলাম
  প্রকাশিত : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৮
অ- অ+

এটি একজন মন্ত্রীর গাড়ি। আজ এই গাড়ির বিরুদ্ধে দুটো মামলা করা হয়েছে এবং ছয় হাজার টাকা জরিমানাও করেছে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে

- বাংলাদেশের কোন ট্রাফিক পুলিশের কি এত বড় সাহস হয়েছে; যিনি একজন মন্ত্রীর গাড়ি আটকায়? তাও আবার মামলা করে দিয়ে জরিমানাও করে?

মূল বিষয় হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর আজ সকালে সচিবালয়ে পৌঁছায়। এরপর ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে একটি গাড়ির নিবন্ধন নম্বর পাঠানো হয় কাকরাইল এলাকায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে। জানানো হয়, গাড়িটি সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। এরপর অবশ্য গাড়িটিকে সচিবালয়েই পাওয়া গেছে।

কারন বিমান মন্ত্রী তখন সচিবালয়ে। এরপর মামলা হয়েছে, জরিমানা করা হয়েছে। আমি একটু আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসায় ফিরে এই খবরটা যখন পড়ছিলাম; তখন ভীষণ আনন্দিত হয়ে ভাবছিলাম লিখবো

- আহা, বাংলাদেশেও এমন ঘটনা ঘটে। ট্রাফিক পুলিশ মন্ত্রীকে জরিমানা করছে।

এরপর পুরো ঘটনা পড়ে আমার কী মনে হয়েছে জানেন? স্রেফ ধারণার কথা বলছি। আমি ভুলও হতে পারি। তবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর আশপাশের মানুষদের আমি যতটুকু জানি-বুঝি। এতে আমার মনে হয়েছে- স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজে ওই গাড়ির ছবি তুলে রেখেছিলেন এবং তিনিই হয়ত ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলেন

- এই গাড়ি আইন অমান্য করেছে। একে খুঁজে বের করা হোক।

তিনি তো আর জানতেন না, ওই গাড়িটি কোন মন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী এই ঘটনার পেছনে না থাকলে, বাংলাদেশে আর কারও সাধ্য কি আছে; কোন মন্ত্রীর গাড়ি আঁটকে দেয়?

আমার অন্তত মনে হয় না। কারন মন্ত্রীর গাড়ি আটকিয়ে দিয়ে, তাঁকে জরিমানা করে এরপর কখন কোন বিপদে পড়ে; ঠিক আছে নাকি!

চিন্তা করে দেখেন, প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর আইন মেনে চলছে। কিন্তু এই বিমান মন্ত্রী দিব্যি উল্টো পথে চলছিল (যদিও বলা হয়েছে, সড়কে প্রতিবন্ধকতা করেছে!) মানে আইন মানছিল না! মন্ত্রী কিন্তু ওই গাড়ির ভেতরেই ছিল।

গাড়িটির বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে ট্রাফিক সার্জেন্ট সিফাত মাহমুদ। এই সার্জেন্ট এরপর বলেছে

- মন্ত্রীর গাড়িতে মামলা দেওয়া যায়, এটা আমিও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। এটা একটা বিরল ঘটনা।

হে তরুণ অফিসার,

জেনে রাখো- এর পেছনে প্রধানমন্ত্রী না থাকলে; আজ হয় তোমাকে বদলি করা হতো। নইলে বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে চাকরিটাই খেয়ে দিত।

তবে আমি এটিকে বিরল ঘটনা হিসেবেই দেখছি। অন্য মন্ত্রীরা সতর্ক হন। ঠিকঠাক মত কাজ করেন। দুর্নীতি করবেন না। স্বজনপ্রীতি করবেন না। আর আইন মেনে চলুন। আমাদের কাছে কিন্তু অনেক খবর আসতে শুরু করেছে।

সময় থাকতে ভালো হন। নইলে আমার ধারণা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেই একদিন আপনাদের জেলে ভরবে। সময় পাল্টেছে। প্রধানমন্ত্রীরও ভুল থাকতে পারে। দিন শেষে সবাই মানুষ।

কিন্তু মানুষটা ১৭ বছর পর দেশে গেছে। এখন পর্যন্ত নয় মাসও হয় নাই। একটা যে কোন সাধারণ মানুষ যদি ১৭ বছর এক টানা ইউরোপে থাকার পর বাংলাদেশে যায়। মানিয়ে নিতেও দশ মাস লাগবে। আমরা বিদেশে থাকি, আমরা বুঝতে পারি। জাস্ট হিউম্যান পার্স্পেক্টিভ থেকে বলছি।

আর এই ছয় মাসেই আপনারা গ্রুপিং, কোরাম, স্বজনপ্রীতি; করছেন না এমন কিছু নাই। কোথায় আপনারা এই মানুষটাকে সাহায্য করবেন দেশের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে। আর আপনারা কী করছেন?

প্রথম দিন থেকেই শুরু করেছেন লবিং, গ্রুপিং! কে কীভাবে খাবেন সেই প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। মানুষটা কিছু বুঝে উঠার আগেই আপনারা নেমে পড়েছেন সেই পুরনো সিস্টেমে। মনে রাখবেন- এই দেশের মানুষ আপনাদের শেষ সুযোগ দিয়েছে। এইবার যদি আপনারা না পারেন। লিখে রাখেন- আপনারা বিলীন হয়ে যাবেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি- আপনারা বিলীন হবার পথ ধরেছেন। তাই সময় থাকতে শুধরান।

(লেখক ড. আমিনুল ইসলামের ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
নীল পোশাক, মুখে স্কচটেপ—এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ ফেলল কারা?
দুবাইয়ে ৭৩ বাংলাদেশির সম্পদের খোঁজে দুদক
‘জিসিসি অঞ্চলের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা মেটাতে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়ার সমন্বয় জরুরি’
রাজপথে হুমকি নয়, সংসদে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে পরামর্শ দিন: রুহুল কবির রিজভী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা