অনলাইনে যৌন শোষণ ও নির্যাতনের শিকার বছরে প্রায় ২ কোটি শিশু: ইউনিসেফ

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫
অ- অ+

বিশ্বের ২১টি দেশের প্রায় ২ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশু প্রতিবছর অনলাইনে যৌন শোষণ বা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এসব ঘটনার অধিকাংশই ঘটছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও পূর্ব ইউরোপের ২১টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হিসাব করা হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় প্রতি পাঁচজনের একজন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অন্তত এক ধরনের যৌন শোষণ বা নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় দেড় কোটি শিশু অনিচ্ছাকৃতভাবে যৌন বিষয়বস্তুর মুখোমুখি হয়েছে। প্রায় ৯০ লাখ শিশুকে যৌন আলাপ বা যৌন ছবি শেয়ার করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। আর প্রায় ৪০ লাখ শিশুর যৌন ছবি তাদের সম্মতি ছাড়াই অন্যদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউনিসেফ আশঙ্কা করছে, বিশ্বজুড়ে অনলাইনে যৌন শোষণ ও নির্যাতনের শিকার শিশুর প্রকৃত সংখ্যা কয়েক কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। কারণ, অনেক শিশু এসব ঘটনা প্রকাশ করতে পারে না কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পায় না।

ইউনিসেফ প্রতিবেদনটিকে এ বিষয়ে পরিচালিত সবচেয়ে বড় গবেষণাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ২১টি দেশে প্রায় ২১ হাজার ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর ওপর পরিচালিত জাতীয় প্রতিনিধিত্বশীল জরিপের তথ্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে। জরিপে কেনিয়া, পাকিস্তান, ব্রাজিল ও সার্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশের শিশুদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অনলাইনে শিশুদের যৌন শোষণ ও নির্যাতনের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটনাই ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এসব প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১৪ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে অনলাইন গেমে।

এদিকে ইউনিসেফের প্রতিবেদনের বিষয়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার এক মুখপাত্র বলেন, জরিপের তথ্যের একটি অংশ পুরোনো এবং এরপর কিশোরদের সুরক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি বেশ কিছু নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে।

মেটার পক্ষ থেকে বলা হয়, কিশোরদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যক্তিগত রাখা এবং পরিচিত নয়—এমন প্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে বার্তা আসা ঠেকানোর মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মেটার ওই মুখপাত্র আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি হোয়াটসঅ্যাপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ হিসেবে বিবেচনা করে।

প্রতিবেদনটিতে নির্যাতনের নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তবে শিশুদের যৌন শোষণ ঠেকাতে মেটার সব প্ল্যাটফর্মে কঠোরভাবে কাজ অব্যাহত থাকবে এবং এ ধরনের অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করা হবে বলে জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/৩ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
নিলামে বিক্রি হওয়া সম্পত্তির ওপর ভ্যাট অবৈধ: হাইকোর্ট
জাতীয় সংসদে ১০ স্থায়ী কমিটি গঠন, দায়িত্ব পেলেন যারা
দেশের বাজারে আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম
ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২৯ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৬৪
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা