কোথায় হারাচ্ছে শিশুরা? ৭ মাসে শিশু নিখোঁজের জিডি প্রায় ১৬ হাজার, মেলেনি সন্ধান

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৬| আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৪
অ- অ+

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশু নিখোঁজ ও অপহরণের ঘটনা। পুলিশ সদর দপ্তরের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে সারাদেশের বিভিন্ন থানায় প্রায় ১৬ হাজার শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে দুই হাজারের বেশি শিশু নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পুলিশের কাছে এসেছে।

শিশু নিখোঁজের এমন পরিসংখ্যান তাদের নিরাপত্তা, পারিবারিক সচেতনতা এবং সামাজিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। নিখোঁজ শিশুদের কেউ খেলাধুলার সময় পরিবারের অগোচরে হারিয়ে যাচ্ছে, কেউ আবার বাস বা গণপরিবহন থেকে ভুল করে নেমে গিয়ে আর পরিবারের কাছে ফিরতে পারছে না। আবার প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণের ঘটনাও ঘটছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়া অনেক শিশুকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও কিছু শিশু দীর্ঘদিনেও ফিরে আসছে না। রূপা ও হালিমার মতো অনেক শিশুর সন্ধান এখনো মেলেনি। ফলে নিখোঁজ শিশুদের একটি অংশ কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে এবং দীর্ঘদিন পরও কেন অনেকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না- এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।

তবে প্রযুক্তির ব্যবহার ও সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে দ্রুত উদ্ধার পাওয়ার উদাহরণও রয়েছে। পাঁচ বছরের মুসকান ও আট বছরের সাইফ অপহরণের পর ‘মুন অ্যালার্ট’ (১৬২১৯) এবং বিলবোর্ডে তাদের ছবি ও তথ্য প্রচার করা হলে চাপের মুখে অপহরণকারীরা সদরঘাট এলাকায় শিশু দুটিকে রেখে পালিয়ে যায়।

অন্যদিকে আশ্রমে থাকা নুরুন্নাহার নামের এক শিশুকে দীর্ঘ আট বছর পর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অনুসন্ধানের মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়। পরে তার মা ও স্বজনদের সঙ্গে পুনর্মিলন ঘটে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বলছে, শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়কে উদ্ধার অভিযানের ‘গোল্ডেন আওয়ার’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিখোঁজের তথ্য যত দ্রুত পুলিশ, সংশ্লিষ্ট সংস্থা, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, শিশুকে নিরাপদে উদ্ধারের সম্ভাবনাও তত বাড়ে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু থানায় সাধারণ ডায়েরি করার মধ্যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে নিখোঁজের পরপরই সমন্বিতভাবে তথ্য প্রচার, প্রযুক্তিনির্ভর চাইল্ড ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এবং আন্তঃথানা যোগাযোগ জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদেরও শিশুদের চলাফেরা ও নিরাপত্তার বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।

শিশু নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক শিশুকেই অল্প সময়ের মধ্যে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব। তাই নিখোঁজ হওয়ার পর অপেক্ষা না করে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর পাশাপাশি শিশুর ছবি, পোশাক ও অন্যান্য শনাক্তকারী তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

(ঢাকাটাইমস/৩০ আগস্ট/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
সাবেক আইজিপি ড. এম. এনামুল হক মারা গেছেন
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৫২২ জন গ্রেপ্তার, মামলা ২৫
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা