আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭| আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫০
অ- অ+

আজ ৩০শে আগস্ট, আন্তর্জাতিক বলপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও প্রতিরোধ দিবস। বিশ্বজুড়ে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য দিনটি পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য—‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাও’।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে গুমের ঘটনা বন্ধ, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে।

দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গুম ও অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের দিনের পর দিন আটকে রাখতে বিভিন্ন স্থানে গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ তৈরি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এর মধ্য দিয়ে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষারও মৃত্যু হয়। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে গুমের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা। স্বজনদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অনেককে তুলে নেওয়ার পর দীর্ঘদিন তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে বিভিন্ন গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখার অভিযোগও সামনে আসে।

গুম কমিশন ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের অভিযোগের চিত্র উঠে এসেছে। জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর এসব অভিযোগের তদন্ত ও বিচার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। গুমের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও আবেদন করা হয়েছে। গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন ঘটনায় অভিযোগ দাখিল করেছেন।

গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে মোট ১,৯১৩টি গুমের অভিযোগ জমা পড়েছিল, যার মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের পর বাংলাদেশে ১,৫৬৯টি ঘটনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জোরপূর্বক গুম হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ।

গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই লক্ষ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল-২০২৬’ গত ২৭ আগস্ট সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও তাদের অধিকার সংরক্ষণ এবং প্রতিকারের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মানবাধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাকেও আইনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম বন্ধ, এ অপরাধে দায়মুক্তি রোধ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গুম হওয়া সব ব্যক্তির সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সনদ গ্রহণের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

পরে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স’ কার্যকর হয়। ওই সনদের আওতায় ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রগুলোর ওপর জবাবদিহির চাপ সৃষ্টি করাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে ২০১১ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

এদিকে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অতীতের সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

(ঢাকাটাইমস/৩০ আগস্ট/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
শুটিং থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন তাসনুভা তিশা
প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত বেতন, জেনে নিন
গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জে ছুটবে নতুন মেট্রোরেল, ব্যয় ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা
নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যায় নিহত প্রায় ৭০০, নিখোঁজ ৩ হাজার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা