নারায়ণগঞ্জে বন্দুক নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করা সেই ২ তরুণ গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সিটি নগর পার্কে ‘বন্দুক’ হাতে দুই তরুণের ঘোরাফেরা ও পথচারীদের দিকে অস্ত্র তাক করে মানুষের ভয় বা আতঙ্কের মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি খেলনা বন্দুক জব্দ করা হয়।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় বন্দর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার এবং ভিডিওটি আমাদের নজরে আসলে শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় বন্দর বাজার এলাকা থেকে ভিডিও নির্মাতা লিমন তোহা ও ইয়াসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দুজনের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগে সদর থানার উপ-পরিদর্শক সাখাওয়াত বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় শনিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত লিমন তোহা ওই এলাকার মো. শাহীন আহমেদের ছেলে এবং ইয়াসিন মোল্লার বাবার নাম স্বপন মোল্লা।
এ নিয়ে ‘নারায়ণগঞ্জে বন্দুক হাতে দুই তরুণের ভিডিও নিয়ে তোলপাড়’ শিরোনামে সংবাদ প্রচার করা হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় বন্দুকের ভয় দেখিয়ে মানুষের আতঙ্কের মুহূর্তের ভিডিও নির্মাতা দুই তরুণকে।
পুলিশ জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যে দুটি বন্দুক দেখা যায়, গ্রেপ্তারের পর সেগুলো উদ্ধার করে পরীক্ষা করা হলে খেলনা বন্দুক হিসেবে শনাক্ত হয়। পরে দুটি খেলনা বন্দুকই তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুই তরুণের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, লিমন তোহা ২০২৪ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা করেননি। তিনি প্রায় সাত বছর ধরে টিকটক করেন। অপরদিকে ইয়াসিন মোল্লা ২০২২ সালে এসএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা করেননি। তিনি প্রায় দুই বছর ধরে টিকটক করছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে কালো রঙের লম্বা কুর্তা-পায়জামা ও মাথায় টুপি পরা দুই তরুণকে নারায়ণগঞ্জের সিটি নগর পার্কের বিভিন্ন স্থানে ‘বন্দুক’ হাতে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাদের পথচারী, রিকশাচালক ও শিশুসহ বিভিন্ন ব্যক্তির দিকে বন্দুক তাক করতেও দেখা যায়। এ সময় মানুষের ভয়-আতঙ্কের মুহূর্ত ভিডিও ক্যামেরায় ধারণ করেন। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বন্দুক হাতে ভিডিওটি প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে লিমন ও তার বোন বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করেন। পরে একই ভিডিও ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ‘ওয়াফি লিমন’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। তিনটি অ্যাকাউন্টই লিমনের বলে তিনি দাবি করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
লিমন তোহা বলেন, টিকটকে এ ধরনের ভিডিওর ট্রেন্ড দেখে তিনি এটি তৈরি করেন। বন্দুক দেখে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করা।
লিমন দাবি করেন, এটি মূলত ফানি ভিডিও হিসেবে বানানো। কিন্তু ফেসবুকে দেওয়ার পর অনেকে এটিকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করেছেন। আমরা মানুষের ভয় পাওয়ার অংশটুকু প্রকাশ করেছি। পরে তারা যে মজা করেছেন, সেই অংশটি প্রকাশ করিনি। আমি আমার পেজ থেকে ভিডিওটি ডিলিট করে দিয়েছি।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, দুই তরুণের বিরুদ্ধে বন্দুক দেখিয়ে মানুষকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে মামলা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে দুই তরুণ লিমন তোহা ও ইয়াসিন মোল্লাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
(ঢাকা টাইমস/২৯আগস্ট/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































