ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে কী কথা বলেছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ

জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করেন তিনি। তার বক্তব্যের প্রতিবাদে জেলায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতি মাসে গড়ে ২৬০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, আর বর্তমান সরকারের সময়ে সেই সংখ্যা বেড়ে ৩১১টিতে দাঁড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসে ১ হাজার ৭৮০ জন এবং বর্তমান সরকারের ছয় মাসে ১ হাজার ৭৮৯ জন হত্যার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে হাসনাত বলেন, বিগত সরকারের ছয় মাসে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল ১ হাজার ৯০টি। বর্তমান সরকারের সময়ে তা বেড়ে হয়েছে ১১ হাজার ১৬৫টি।
গণপিটুনিতে নিহতের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে ছয় মাসে গণপিটুনিতে ১৬৬ জন নিহত হয়েছিলেন। বর্তমান সরকারের ছয় মাসে এ সংখ্যা ১২০ জন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা বিগত সময়ে ২৭৫টি হলেও বর্তমান সরকারের সময়ে তা বেড়ে ৩১৭টি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, জেলায় কনসার্ট ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে একটি ‘কালচারাল জেলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমার মতো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে হাসনাত প্রশ্ন করেন, বর্তমান সরকারের ছয় মাসে তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছেন কি না এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে তার ভূমিকা ছিল কি না। একই সঙ্গে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন।
‘এটা প্রশ্ন, না পল্টনের বক্তৃতা?’
হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এটা প্রশ্ন, না পল্টনের বক্তৃতা বুঝতে পারিনি।’
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সফল হয়েছেন কি না—এটি একটি প্রশ্ন। আর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সিনেমা হল কেন নেই, সেটি আরেকটি প্রশ্ন।
হাসনাতের বক্তব্যে উল্লেখ করা হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কত হত্যা ও আহতের ঘটনা ঘটেছে—এ বিষয়ে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা কীসের ভিত্তিতে এবং কোন পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি না, তা দৃশ্যমান। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো নির্দিষ্ট সামাজিক ঘটনা তুলে ধরতে পারলে তিনি ৩০০ বিধিতে সংসদে বিবৃতি দিতে পারবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ
এদিকে সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরের জামিয়া ইউনুসিয়া মাদরাসা থেকে মিছিলটি বের হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে হাসনাতের বক্তব্যের সমালোচনা করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহকে তার বক্তব্যের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হতে দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন।
এ ঘটনায় সংসদে দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপির কোনো কর্মসূচি হলে তা প্রতিহত করার ঘোষণায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
(ঢাকাটাইমস/২৯ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































