রাঙ্গাবালীতে খাল নিয়ে বিরোধ, মাছ ধরা ঘিরে হট্টগোল

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে খাল ইজারা নেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয়দের মাছ ধরায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকারিয়া হোসাইনকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের মধ্য চরলতা স্লুইস খালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাসেল গাজী নামের এক ব্যক্তি খালটি ইজারা নিয়েছেন—এমন দাবি করে তার পক্ষের লোকজন স্থানীয়দের খালে মাছ ধরতে বাধা দেন। এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে রাসেল গাজী ও প্রিন্স গাজীর পক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানান, খালটি উন্মুক্ত রাখার দাবি রয়েছে তাদের। এতে স্থানীয়রা অবাধে মাছ ধরতে পারবেন।
অন্যদিকে একটি পক্ষ খালটি ইজারা নেওয়ার দাবি করায় দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।
ঘটনার একপর্যায়ে জাকারিয়া হোসাইন সেখানে গেলে তাকেও ঘিরে ধাক্কাধাক্কি হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। পরে কয়েকজন তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।
চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. বাহাদুর বলেন, এমপি মহোদয় খালটি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রিন্স গাজীর ভাই মিন্টু গাজীসহ কয়েকজন ওই খালে গিয়ে স্থানীয়দের মাছ ধরতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া দেন। পরে জাকারিয়া হোসাইনকে ঘিরেও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে শুনেছি। কয়েকজন গিয়ে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নেন। এরপর স্থানীয়রাও চলে যান।
বাহাদুর আরও দাবি করেন, জাকারিয়া হোসাইন খালটি ইজারা নেওয়ার দাবিদার রাসেল গাজীর পক্ষে কথা বলছিলেন। এ কারণেই স্থানীয়দের সঙ্গে তার ধাক্কাধাক্কি হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাকারিয়া হোসাইন। তিনি বলেন, এরকম ফালতু কথাবার্তা কে বলছে? এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে প্রতিবেদকের কাছে তথ্যদাতাদের নাম জানতে চান জাকারিয়া হোসাইন। একপর্যায়ে তিনি তথ্যদাতাদের উদ্দেশ্যে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন। পরে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং এ ধরনের ঘটনার কোনো সত্যতা নেই।
খালটি ইজারা নেওয়ার বিষয়ে রাসেল গাজীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। কেউ কোনো অভিযোগও করেনি।”
স্থানীয়দের দাবি, খালটি ইজারা দেওয়া হয়েছে কি না এবং স্থানীয়দের মাছ ধরার অধিকার নিয়ে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত প্রশাসনিকভাবে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। অন্যথায় এ বিরোধকে কেন্দ্র করে আরও উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
(ঢাকা টাইমস/২৯আগস্ট/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































