সাংবাদিকতা এখন আগের চেয়ে স্বাধীন, তবে চ্যালেঞ্জ শেষ হয়নি: কাদের গনি চৌধুরী

কক্সবাজার প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৬:১৮
অ- অ+

সাংবাদিকরা এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী।

শনিবার কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক ইউনিয়ন, কক্সবাজার-এর বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বিএফইউজে'র মহাসচিব বলেন, স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতা করতে না পারলে দেশ ও গণতন্ত্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রকে সাংবাদিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষা না থাকলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হবে। তিনি গণমাধ্যমের সুরক্ষার পাশাপাশি নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকরা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন। কিন্তু চ্যালেঞ্জ শেষ হয়নি। দেশে সাংবাদিকতার পরিবেশ নানা কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক চাপ এবং পেশাগত অনিরাপত্তা—সব মিলিয়ে অনেক সাংবাদিক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করে, তেমনি অপসাংবাদিকতা ও পেশাগত দক্ষতার অভাবও বড় সমস্যা। একই সঙ্গে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও কখনো কখনো এমন চাপ তৈরি হয়, যা সাংবাদিকদের নৈতিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত করতে পারে।

দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে হলে শুধু নিরাপত্তাই নয়, সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত মর্যাদাও নিশ্চিত করতে হবে। অধিকাংশ গণমাধ্যম ওয়েজবোর্ড মেনে বেতন দেয় না। অনেক গণমাধ্যমে সাংবাদিকদের বেতন দেন মালিকের ড্রাইভারের বেতনের চেয়েও কম। এসব বন্ধ করতে হবে।

আমরা সরকারকে বলেছি "নো ওয়েজবোর্ড, নো মিডিয়া" নীতি কার্যকর করতে। এটা করা গেলে গণমাধ্যমের ভেতরের অনেক নৈরাজ্য দূর করা সম্ভব হবে।

বিএফইউজে মহাসচিব বলেন, সাংবাদিকতা নিছক চাকরি নয়। দেশে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, সব ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষা এবং বৈষম্য দূর করায় সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। গণমাধ্যমের যদি উচ্চকণ্ঠ না থাকে, তাহলে সমাজে অনেক ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতা স্বাধীন ও শক্তিশালী না হলে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা যায় না। বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাধীন বিচার বিভাগের পাশাপাশি স্বাধীন গণমাধ্যমকে আলাদা করে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত মামলা, নির্যাতন ও হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।

সরকারের উদ্দেশে সাংবাদিকদের এ নেতা বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা সরকারকে সত্য কথা বলবে। মিডিয়া যা বলছে তা যাচাইয়েরও সরকারের সুযোগ আছে।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকদের জাতির বিবেক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাতির বিবেক যদি সাংবাদিক হন, আর সেই বিবেকের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র যদি হয় কলম, তাহলে সেই কলম থামিয়ে দেওয়া মানে শুধু একজন সাংবাদিকের কণ্ঠ রোধ করা নয়— এটি সত্য প্রকাশের পথকে সংকুচিত করে।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকের ওপর আঘাত মানে বিবেকের ওপর আঘাত। একজন সাংবাদিক যখন দুর্নীতি, অনিয়ম, সন্ত্রাস, অব্যবস্থাপনা কিংবা মানুষের ওপর অন্যায়ের ঘটনা তুলে ধরেন, তখন তিনি সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করেন। তার প্রতিবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমস্যার বিষয়ে জানতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু সত্য প্রকাশের কারণে যদি কোনো সাংবাদিক হামলা, হুমকি বা হয়রানির শিকার হন, তাহলে এর প্রভাব শুধু তার ওপরই পড়ে না। এতে অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও ভয় তৈরি হয়। ধীরে ধীরে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে, যেখানে সত্য জানলেও অনেকে তা প্রকাশ করতে সাহস করবেন না। মনে রাখবেন কলমকে থামানো যায়, সত্যকে নয়।

তিনি বলেন, সাংবাদিকের হাতে থাকা কলম কোনো ধ্বংসের অস্ত্র নয়। এটি মানুষের কথা বলার, সত্য তুলে ধরার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যম।

তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকের কলম মানুষের কষ্টের কথা বলে। এই কলম অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করে। এই কলম মানবিক বাংলাদেশের কথা বলে। এই কলম থামানো যাবে না। এতে রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সাংবাদিকের কলমকে ভয় না পেয়ে তাকে লিখতে দেওয়া, ক্ষমতাবানদের প্রশ্ন করতে দেওয়া এবং ক্ষমতাবানদের প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য করা রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণের। ভুলে গেলে চলবে না একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে না। একটি জাতির প্রকৃত শক্তি তার ন্যায়বোধ, মানবিকতা, জবাবদিহি এবং সত্য বলার সাহসের মধ্যে নিহিত। সাংবাদিকরা যদি নিরাপদে কাজ করতে না পারেন, যদি সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন, যদি প্রশ্ন করার কারণে হুমকি পান—তাহলে সমাজে ভয় ও নীরবতার সংস্কৃতি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, যখন জাতির বিবেক নীরব হয়ে যায়, তখন অন্যায়কে অন্যায় বলার মানুষও কমে যায়। তাই সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সাংবাদিকদের স্বার্থ নয়; এটি সাধারণ মানুষের জানার অধিকার রক্ষারও অংশ। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার সমাধান হতে হবে আইন ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। হামলা, ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করে কোনো সমস্যার সমাধান করা যায় না।

সাংবাদিক ইউনিয়ন, কক্সবাজার-এর সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী এতে সভাপতিত্ব করেন। বিএফইউজে'র সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবর রহমান, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এস এম আমিনুল হক চৌধুরী, কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারি, সহ-সভাপতি কামাল হোসেন আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক ইকরাম চৌধুরী টিপু, সাংবাদিক ইউনিয়ন, কক্সবাজার-এর সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগেই দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
সিলেট সীমান্তে ২৯ লাখ টাকার চোরাচালানের পণ্য জব্দ
২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে  ৩ শিশুর মৃত্যু , আক্রান্ত ৯৪৩
দুঃখপ্রকাশ কর‌লেন হাসনাত আবদুল্লাহ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা