অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে মামলা, দেড় মাস পর জীবিত উদ্ধার নারী

খুলনার কয়রা থেকে এক নারীকে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ গুম করার অভিযোগে মামলা করেছিলেন তাঁর মা। তবে মামলার তদন্তে প্রায় দেড় মাস পর ওই নারীকে ঢাকার একটি এলাকা থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
উদ্ধার হওয়া ওই নারীর নাম আয়েশা খাতুন (৩৬)। গত ১১ জুলাই তাঁকে কয়রা থানার মসজিদকুড় ব্রিজের ওপর থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছিল। পরে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং মুক্তিপণ না পেয়ে তাঁকে হত্যা করে লাশ গুম করার অভিযোগে গত ৩ আগস্ট আদালতে মামলা করেন তাঁর মা আমেনা খাতুন (৪৯)।
মামলায় আয়েশার স্বামী ইসলাম সরদারসহ তিনজনকে আসামি করা হয়। মামলার পর আদালত সিআর মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই, খুলনাকে নির্দেশ দেন।
পিবিআই খুলনা জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন মামলাটির তদন্তভার দেন এসআই এস এম রাজীব রায়হানকে। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আয়েশার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে জানা যায়, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল আটটার দিকে তদন্ত কর্মকর্তাসহ পিবিআইয়ের একটি দল ঢাকায় অভিযান চালিয়ে আয়েশাকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে তাঁর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের তদন্ত ও আয়েশার জবানবন্দি অনুযায়ী, প্রায় ১২ বছর আগে ইসলাম সরদারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। একপর্যায়ে আয়েশা স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করতে চান না বলে পরিবারের সদস্যদের জানান।
তবে তাঁর বাবা-মা তাঁকে বুঝিয়ে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর প্রায় দেড় মাস আগে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে স্বেচ্ছায় ঢাকায় চলে যান আয়েশা। সেখানে আত্মগোপনে থাকার সময় তাঁর মা আদালতে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে মামলাটি করেন।
পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ভুক্তভোগী নারীকে দ্রুত জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত এখনো চলছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































