নেপালে কাদার ভেতর মিলছে শত শত মরদেহ, মৃত্যু দাঁড়াল প্রায় ৪০০, নিখোঁজ দেড় হাজার

হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহধসে সৃষ্ট বন্যায় কাঁদা ও পাথরে চাপা পড়া মানুষের মৃতদেহ বেরিয়ে আসে একর পর এক। নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল প্রায় চার শ। নিখোঁজ রয়েছেন আরও প্রায় দেড় হাজার।
বুধবারের ওই আকস্মিক বন্যায় স্থানীয় শহর, জনপদ ও উপত্যকা লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) উদ্ধারকারীরা কাদার মধ্যে নেমে নিখোঁজদের সন্ধান চালান। নেপালের কর্মকর্তারা জানান, অন্তত ৩৯০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। চীনের তিব্বত অঞ্চলে উদ্ধার হয়েছে অন্তত তিনজনের মরদেহ।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, গতকাল বিকালে তিব্বতের ভূমিধসকবলিত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং।
নেপালের পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তারা জানান, সেখানে নিখোঁজ ৯১০ জনের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক। এর মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন রয়েছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ১০০ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন।
এদিকে তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানায় চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।
উদ্ধারকাজে চ্যালেঞ্জ
উদ্ধারকারীদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ দুর্যোগকবলিত এলাকায় পৌঁছানো। ভূমিধস ও বন্যায় সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছে। এসব হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকা থেকে জীবিতদের উদ্ধার ও আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানানন, উদ্ধার অভিযানে পাঁচ হাজারের বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন।
এদিকে নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার স্থানে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি বাড়ছে এবং যেকোনো সময় সেটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটের বিদুরের পরিস্থিতি দেখতে সড়কপথে যাচ্ছেন বলে তার কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারতসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
প্রতিবেশী ভারত সরবরাহ করা তাঁবু, খাবার ও ওষুধ হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর জানায়, তারা জরুরি সহায়তা হিসেবে ৫ লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক দফতরের প্রধান টম ফ্লেচার জানান, নেপালের ত্রাণ কার্যক্রমে জাতিসংঘের বৈশ্বিক জরুরি তহবিল সিইআরএফ থেকে ২০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হবে।
(ঢাকাটাইমস/২৮আগস্ট/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































