এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা, চাকরি হারালেন হাজারো শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৭| আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৯
অ- অ+

তীব্র তারল্য সংকট, ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত জটিলতা এবং কাঁচামাল আমদানিতে অচলাবস্থার কারণে দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ১১টি ভারী শিল্পকারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর নোটিশ বোর্ডে ছাঁটাই ও কারখানা বন্ধের নোটিশ টানানো হয়। শুক্রবার থেকে সব ধরনের উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

বন্ধ ঘোষণা করা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, ইনফিনিটি সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস (এনওএফ), চেমন ইস্পাত, গ্যালকো স্টিল, এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল মিলসসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে কর্ণফুলীর এসব কারখানায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে আড়াই হাজার ছিলেন স্থায়ী এবং দেড় হাজার অস্থায়ী কর্মী। তবে গত বছরের আগস্টের পর থেকে আর্থিক সংকট, ব্যাংকিং জটিলতা এবং কাঁচামালের ঘাটতির কারণে উৎপাদন ক্রমেই কমে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যায়ক্রমে কয়েক দফায় শত শত শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে অবশিষ্ট কর্মীদেরও অব্যাহতি দিয়ে সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শ্রমিকরা জানান, নোটিশে ১ আগস্ট থেকে তালিকাভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি অবসানের বিষয়টি জানানো হয়েছে। হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকায় কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ দায়িত্বে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।

গ্রুপটির মানবসম্পদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত প্রায় দুই বছর ধরে ব্যাংকিং সংকট ও আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকিং সহায়তা, নগদ তারল্য এবং কাঁচামাল আমদানির সুযোগ না থাকায় শিল্পকারখানাগুলো সচল রাখা আর সম্ভব হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু হাজারো শ্রমিকই কর্মহীন হননি, এর প্রভাব পড়তে পারে সংশ্লিষ্ট পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও। একই সঙ্গে শিল্পখাতে কর্মসংস্থান ও উৎপাদন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/০১ আগস্ট/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
জিপিএস চালু করার সহজ কৌশল, মিলবে নির্ভুল নেভিগেশন
দেশের ৭ জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
আজ থেকে গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক, নিবন্ধন ও ফিটনেসে নতুন শর্ত
ইতালিতে ৪.৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প, সতর্কতা জারি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা