সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং হাবের সম্ভাবনায় বাংলাদেশ, দরকার সরকারের অব্যাহত সহায়তা: উলকাসেমি সিইও

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:২০
অ- অ+

দীর্ঘমেয়াদি শিল্প সহায়তা ও সরকারের ধারাবাহিক নীতিগত উদ্যোগ থাকলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারে একটি প্রতিযোগিতামূলক সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উলকাসেমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান।

তিনি বলেন, দেশের প্রকৌশল স্নাতকদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা, তুলনামূলক কম পরিচালন ব্যয় এবং চিপ ডিজাইন খাতে বাড়তে থাকা সক্ষমতা একটি জ্ঞানভিত্তিক রপ্তানি শিল্প গড়ে তোলার শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে।

সেমিকন্ডাক্টর খাতের উন্নয়নে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এনায়েতুর রহমান বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ঘোষিত কর সুবিধা এ শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, বিপুল পুঁজিনির্ভর চিপ উৎপাদনের পরিবর্তে বাংলাদেশের উচিত সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, টেস্টিং ও প্যাকেজিং সেবার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া। কারণ, এ খাতে দেশের বিদ্যমান সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দ্রুত বৈশ্বিক বাজারে জায়গা তৈরি করা সম্ভব।

উলকাসেমির সিইও জানান, বাংলাদেশের স্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে চিপ ডিজাইন সেবা দিচ্ছে।

২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত উলকাসেমি বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতিষ্ঠানটির চারটি ডিজাইন সেন্টার রয়েছে। এসব কেন্দ্রে উন্নত প্রযুক্তির সেমিকন্ডাক্টর নোড নিয়ে কাজ করছেন ৬০০-এর বেশি প্রকৌশলী।

তিনি বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত হলেও দেশের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন রপ্তানি থেকে বছরে প্রায় ৬০ থেকে ৮০ লাখ ডলার আয় হচ্ছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এ আয় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সঠিক নীতিগত সহায়তা পেলে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এনায়েতুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার প্রকৌশল স্নাতক বের হন, যা সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য বড় মানবসম্পদ ভিত্তি তৈরি করছে। তবে শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা বাড়াতে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাব দেন। এর মধ্যে রয়েছে—সুনির্দিষ্ট সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়ন তহবিল গঠন, দীর্ঘমেয়াদি কর সুবিধা, ডিজাইন সেবা রপ্তানিতে প্রণোদনা, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করা।

প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের অবদান নিয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, প্রবাসী দক্ষ জনবল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশীয় শিল্পের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করা গেলে এ খাতের প্রবৃদ্ধি আরও দ্রুত হবে।

এনায়েতুর রহমান জানান, উলকাসেমি বাংলাদেশে জনবল উন্নয়ন ও উন্নত প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির ভিএলএসআই ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (ইডিএ) সরঞ্জামের মাধ্যমে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন প্রকৌশলীদের উচ্চ দক্ষতার চাকরির জন্য প্রস্তুত করছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের ধারাবাহিক সহায়তা ও নীতির স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার একটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পরিণত হতে পারবে। এতে উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের রপ্তানি খাত আরও বৈচিত্র্যময় হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৭ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
Semiconductors: A New Economic Opportunity, A New Prospect for Bangladesh
আলফাডাঙ্গায় রোটারি ক্লাব অব ঢাকা লুমিনাসের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সেমিকন্ডাক্টর, বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা