গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু করেছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১:১০
অ- অ+

গুমকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানান।

তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স সবচেয়ে ভয়ংকর। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী কিংবা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গুমের মতো নির্মম পথ বেছে নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম-অপহরণের পথ বেছে নিয়েছিল। মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর মানুষকে আটক রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যেগুলো জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার হিসাব তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে ওই সরকার বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক।

তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

সরকার আশা করছে, বিলগুলো যথানিয়মে আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ গুম কিংবা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত হওয়ার সুযোগ পাবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু কোনো একটি সংখ্যা বা একজন ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষা জড়িয়ে থাকে। গুম হওয়া ব্যক্তির স্বজনদের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে থমকে যায়। তারা প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকেন, অথচ স্বাভাবিকভাবে শোক প্রকাশেরও সুযোগ পান না।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতন ঘটে। এরপর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

বাণীতে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধির ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গুমের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে রাষ্ট্র বা সরকারের মাধ্যমে সংঘটিত গুম ও এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি এবং বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়। এবারের দিবসটির প্রতিপাদ্য- ‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।

(ঢাকাটাইমস/৩০ আগস্ট/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
সাবেক আইজিপি ড. এম. এনামুল হক মারা গেছেন
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৫২২ জন গ্রেপ্তার, মামলা ২৫
কোথায় হারাচ্ছে শিশুরা? ৭ মাসে শিশু নিখোঁজের জিডি প্রায় ১৬ হাজার, মেলেনি সন্ধান
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা