জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানে নতুন উদ্যোগ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনইউ) ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন এবং শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান উপযোগী করে তুলতে অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্ট্যান্টস (ACCA) বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে হিসাববিজ্ঞান এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের বর্তমান পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করে ACCA-এর পেশাগত মানদণ্ড ও মডিউলের সঙ্গে সামঞ্জস্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় ও ACCA বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের এক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের চেয়ারম্যান এস এম মুজাহিদুল ইসলাম, কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) ড. রুহুল কুদ্দুসসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা অংশ নেন। ACCA বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার প্রমা তাপশী খানের নেতৃত্বে সংস্থাটির প্রতিনিধিরাও বৈঠকে ছিলেন।
বৈঠকে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বর্তমান পাঠ্যক্রম পর্যালোচনার জন্য একটি যৌথ সিলেবাস আধুনিকায়ন কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও ACCA-এর প্রতিনিধিরা থাকবেন। কমিটির সভাপতি থাকবেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের চেয়ারম্যান।
প্রস্তাবিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনার পাশাপাশি ACCA-এর পেশাগত যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। এ জন্য ACCA-এর প্রাসঙ্গিক ডিপ্লোমা ও সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্টিং টেকনিশিয়ান (CAT) মডিউল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সঙ্গে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা পর্যালোচনা করা হবে।
এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পাঠ্যক্রমের সঙ্গে ACCA-এর CAT মডিউলের মডিউলভিত্তিক তুলনা ও গ্যাপ অ্যানালাইসিস করা হবে। এ কাজে ACCA কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেবে।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরির বিষয়টি ACCA বিবেচনা করবে। এর মাধ্যমে হিসাববিজ্ঞান ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং শিক্ষায় আন্তর্জাতিক পেশাগত মানদণ্ড এবং বর্তমান চাকরির বাজারের চাহিদা সম্পর্কে শিক্ষকদের ধারণা আরও গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত নির্বাচিত কলেজে প্রাথমিকভাবে এ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর বাস্তবায়ন কাঠামো ও পরিচালনপদ্ধতি নির্ধারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্ব দেবে।
হিসাববিজ্ঞান ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ের মধ্যে এ উদ্যোগ সীমাবদ্ধ না রেখে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এসব কর্মসূচিতে হার্ড ও সফট স্কিল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং হিসাব ও ব্যবসায়িক সফটওয়্যার ব্যবহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে।
শিল্প ও চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমের সামঞ্জস্য বাড়াতে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সংলাপ আয়োজনের বিষয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে। এতে নিয়োগদাতা, শিক্ষাবিদ, পেশাদার হিসাববিদসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ACCA বাংলাদেশের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল ব্রিটিশ হাইকমিশনে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়। ওই সমঝোতার ধারাবাহিকতায় গতকালের বৈঠকে কার্যক্রমের অগ্রগতি ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন ও ম্যাপিংয়ের কাজ করা হবে। এরপর শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচিত কলেজে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম বাস্তবায়নের দিকে এগোনো হবে। উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ডিগ্রির পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পেশাগত যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































