দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে চার সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। টিমটির নেতৃত্বে রয়েছেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালাম।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্যরা হলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বেআইনি কাজ হাসিলের জন্য ঘুষ গ্রহণ, অর্থপাচার এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগও রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
এ ছাড়া বিদেশে অর্থপাচার, বেআইনি বিটকয়েন লেনদেন, চাঁদাবাজি, স্বজনপ্রীতি এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও দুদকে এসেছে বলে জানা গেছে।
সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা থাকাকালে ক্রিকেট বোর্ড গঠনে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে তাঁর সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তদবির-বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করে দুদক। প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধানের পর গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে ওই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে মোয়াজ্জেম হোসেনকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। তখন তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদবির ও টেন্ডার-বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কথা জানানো হয়। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও বিভিন্ন লেনদেন নিয়ে অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিল দুদক।
এবার আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া নতুন অনুসন্ধানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি, কেনাকাটা এবং এসব কার্যক্রমে কথিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখবে দুদকের বিশেষ টিম। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশনের বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
(ঢাকাটাইমস/২ সেপ্টেম্বর/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































