বিদিশা এরশাদের জামিন নামঞ্জুর

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৫৯
অ- অ+

রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এ আদেশ দেন।

বিদিশা এরশাদের আইনজীবী মো. আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটির তামাদি সময় মওকুফ করে আপিল আবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত। তবে আসামির কারাবাসের মেয়াদ পর্যাপ্ত না হওয়ায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে বিদিশা এরশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০০৮ সালে দায়ের করা প্রতারণার মামলায় বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এ রায় দেন। পরে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলাটি ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী। ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য তিনি বিদিশা এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। পরে বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন এবং উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও নির্ধারিত সময়ের পরও তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়। বাদীর দাবি, এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে বিদিশা তাঁকে জানিয়েছিলেন।

তবে এসব অভিযোগ মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট নথিতে করা অভিযোগ; আদালতের রায়ে সেগুলোর ভিত্তিতে সাজা দেওয়া হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২ সেপ্টেম্বর/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
এআই বিচারব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে: আইনমন্ত্রী
গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাচ্ছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
স্থানীয় নির্বাচন: ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সুযোগ
চিকিৎসা শেষে মির্জা আব্বাস দেশে ফিরছেন আজ রাতে
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা